হোম > সারা দেশ > রংপুর

ভাঙনের ভয়াল থাবায় তিস্তা ও ধরলাপারের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে ভাঙনের ভয়াল থাবায় তিস্তা ও ধরলাপারের মানুষ। তীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিনই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি, ঘরবাড়ি ও বসতভিটা। কৃষক পরিবারগুলো হারাচ্ছে জীবিকা বাঁচিয়ে রাখার শেষ সম্বলটুকুও।

সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের বুমকা, বনগ্রাম, শিবেরকুঠি, বাসুরিয়া এবং তিস্তা নদীর ভাঙনে লালমনিরহাটের কলেজপাড়া, ধুবনী, সিন্ধুর্ণা, পারুলিয়া, ডাউয়াবাড়ি, ভোটমারি, হরিণচড়া, রাজপুর, পাগলারহাটও চিনাতলী ভাঙনের ভয়াল থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা বুমকা গ্রামের কৃষক আব্দার রহমান শেখ (৬৫) বলেন, ‘ধরলা নদী ভাঙতে ভাঙতে শুধু বসতভিটাটুকু বাকি। কীভাবে চলবে আমাদের আগামী দিনগুলো একমাত্র আল্লাহই জানেন।’

একই গ্রামের ভোলানাথ দেবনাথ (৬০) বলেন, ‘ধরলার ভাঙনে একে একে পাঁচ বিঘা জমি চলে গেছে। বাকি জমিগুলোও এখন হুমকির মুখে। আমাদের সংসার একসময় সচ্ছল ছিল। এখন রাস্তায় উঠে আসার উপক্রম।’

মোগলহাট ইউনিয়নের মকবুল হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিত জরুরি ভিক্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া, জিও ব্যাগ ফেললে অনেক জমি রক্ষা পেত।’

মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় গ্রামে তিস্তার তীরে বসে কূল ভাঙার দৃশ্য অপলক দৃষ্টিতে দেখছিলেন কৃষক আকবর আলী (৬৫)। তার চোখে-মুখে পৈতৃক একখণ্ড জমি হারানোর শঙ্কা। তিস্তা নদীর পানি কমছে, ভাঙনও বাড়ছে।

সদর উপজেলার শিবেরকুঠি গ্রামের মহিবর রহমানের স্ত্রী বিলকিছ বেগম (৩৫) জানান, নদী ভাঙতে ভাঙতে একেবারে আমাদের বাড়ি থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র ২০ গজ। যেকোনো মুহূর্তে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ধরলার ভাঙন ঠেকাতে না পারলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।

সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা বাহার উদ্দিন (৫৫) মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কয়েক দিন আগে চোখের সামনেই বসতভিটা ধরলা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখন আশ্রয় নিয়ে আছেন অন্য জায়গায়।

তিস্তাপারের অলিমা খাতুন (৪৫) আহাজারি করে বলেন, ‘হামাক বাঁচান ব্যাহে, হামার শোগ শ্যাষ। সব নদীত ভাঙিয়া গেইছে ব্যাহে। হামাক বাঁচান। হামরা কই যাম, কী খামো, শোগ নদী ভাঙি নিয়া যাবার লাগছে।’

তিস্তাপারের অপর এক ভুক্তভোগী তসর উদ্দিন (৫০) বলেন, ‘নদীর মাঝখানে আমার বাড়ি ছিল। বাড়ি ভাঙতে ভাঙতে আজ যেখানে বাড়ি দেখতেছেন, তার পাশ পর্যন্ত ভাঙন আসছে। আমার বাড়িটা যেকোনো সময় ভাঙতে পারে। নদীর কিনারত (কাছাকাছি) আসছে ভাঙন। সরকার শুধু হামাক বুঝ দেয়।’

লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের চিনাতলি ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হরিণচড়া আদর্শ বাজার, কুটিপাড়া এলাকায় তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে নিয়ে যায় ১৫টি বসতভিটা। এই ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় মাছের ঘেড়, ধান, পাট ও বাদামক্ষেত। ঘরবাড়ি ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় হাজারো মানুষ।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগে বালু ভরাট করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও কোনো কাজে আসছে না। তিন-চারবারের বেশি বাড়ি সরিয়ে নিয়েও ভাঙনের কবলে পড়ছেন পাড়ের বাসিন্দারা। প্রতি বছর ঈদগাহ্ মাঠ, মসজিদ, স্কুল ও ফসলি ক্ষেত নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, তাই দ্রুত তিস্তায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, জেলায় তিস্তা ও ধরলা নদীতে এরকম প্রায় ৩৩টি এলাকায় কম-বেশি ভাঙন দেখা দিযেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ভাঙন প্রতিরোধে কিছু কিছু জায়গায় কাজ চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জিও ব্যাগে বালু ভরাট করে ভাঙন রোধ করা হচ্ছে।

জেডএম

কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

পীরগাছায় ৩ ফিলিং স্টেশনকে বিএসটিআইয়ের জরিমানা

পীরগঞ্জে চলন্ত অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে চালকের মৃত্যু

রংপুর জেলা পরিষদের ১২৭ এডিপি প্রকল্পের ৬৪টি বরাদ্দ প্রশাসকের নিজ উপজেলায়

হাসপাতালে রোগী নেওয়ার একমাত্র বাহন মানুষের কাঁধ

জুলাইযোদ্ধা রায়হান মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন থাইল্যান্ডের হাসপাতালে

মিঠাপুকুরে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু, থানায় অভিযোগ

বীরগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলে নিহত, বাবা আহত

যন্ত্রপাতির অভাবে বর্জ্য শোধন ও জৈবসার উৎপাদন প্রকল্প বন্ধ

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষায় বহিষ্কার ৭, অনুপস্থিত ২৮৫২