রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর আবু সাঈদ নামে এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের জোড়া আম এলাকায় একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আবু সাঈদ বুধবার বিকেলে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় পথচারীরা জোড়া আম এলাকার একটি আমবাগানের পাশের সড়কে গলাকাটা অবস্থায় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
প্রথমদিকে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলে রংপুর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের চার সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের মেয়ে মোসাম্মৎ সিনহা অভিযোগ করে বলেন, “ময়েনপুর ইউনিয়নের ফুলচৌকি গ্রামের সবুজ নামের এক ব্যক্তি আমার বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সকালে লোকমুখে জানতে পারি, কসবা গ্রামের কাছে একটি আমবাগানের পাশে বাবার গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। সবুজই আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”
অভিযুক্ত সবুজের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী মনজুরা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বামীর দুই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের দেখভালের জন্য তিনি ব্যস্ত আছেন।”
তবে কথা বলার সময় তার মধ্যে আতঙ্কের ছাপ দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সাংবাদিকেরা যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর চাইলে তিনি প্রথমে নানা অজুহাত দেন। পরে সংগ্রহ করা নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) হাফিজুর রহমান বলেন, “আবু সাঈদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত সবুজকে গ্রেপ্তারে পুলিশের দুটি ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে। তাকে আটক করতে পারলেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য পরিষ্কার হবে।”