পার্বতীপুরে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন করে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে অদম্য সাকিব । জন্ম থেকেই দুই হাতের কবজি পর্যন্ত নেই, ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশও অনুপস্থিত। শারীরিক এই সীমাবদ্ধতাকে নিয়তি হিসেবে মেনে না নিয়ে অদম্য সাহস, মেধা ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার তরুণ নাজমুজ সাকিব।
জীবনের প্রতিটি ধাপে সংগ্রাম করেও তিনি আজ সমাজের কাছে অনুপ্রেরণার এক অনন্য নাম। নাজমুজ সাকিব মন্মথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে প্রথম সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। পরবর্তীতে মন্মথপুর কো-অপারেটিভ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৪০ এবং এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৪.৫৬ অর্জন করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর মন্মথপুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
বর্তমানে তিনি পার্বতীপুর সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সাকিবের পারিবারিক সংগ্রামের গল্পও কম হৃদয়স্পর্শী নয়। তার বড় ভাই রোকনুজ্জামান রোকন বর্তমানে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগে প্রভাষক (লেকচারার) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মেজো ভাই আখিরুজ্জামান দিনাজপুর সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে মেকানিক্যাল প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে বর্তমানে ঢাকায় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি আবেদিন গ্রুপের একটি ট্রাক্টর কোম্পানিতে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাজমুজ সাকিব বলেন, ‘জন্মগতভাবে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায়, প্রতিটি পদক্ষেপে আমাকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে অর্থনৈতিক সংকটও আমার নিত্যসঙ্গী।
সাকিবের বাবা আজিমুদ্দীন সরদার বলেন, ‘আমার ছেলে জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হলেও কখনো হার মানেনি। ছোটবেলা থেকেই সে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। আমরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও তার ইচ্ছাশক্তি ও মেধা আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমি বিশ্বাস করি, সুযোগ পেলে সে একদিন সমাজ ও দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।’