ব্রহ্মপুত্র তীরে বিক্ষোভ শেষে
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে নদের তীরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট ঘাট এলাকায় শত শত নারী-পুরুষের অংশ গ্রহণে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ শেষে বালু পরিবহনের রাস্তা ও বালু বিক্রির কাজে ব্যবহৃত তিনটি টোল ঘর ভেঙে দেয় বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চিলমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক নীহারিকা শারমিন দীপির সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে অংশ নেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘রিভারাইন পিপল’-এর পরিচালক ও রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। এছাড়াও শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী নারী-পুরুষসহ স্থানীয় শত শত বাসিন্দা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদী তীর রক্ষায় ব্যবহৃত ব্লক পিচিং তুলে বালু পরিবহনের ট্রাকের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র তীরকে ভাঙন ঝুঁকিতে ফেলে একটি চিহ্নিত চক্র দিনের পর দিন বালু ব্যবসা চালিয়ে গেলেও প্রশাসন নীরব। স্থানীয় বাসিন্দারা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। উপজেলার ফকিরের হাট ঘাট থেকে শুরু করে কাঁচকোল স্লুইচ গেট পর্যন্ত অবাধে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করে তীর রক্ষা বেড়ি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাঙন ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে। কোনো প্রতিকার না পেয়ে এলাকাবাসী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফকিরের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘কিছু চিহ্নিত লোকের সহায়তায় বাইরে থেকে আসা বালুখেকোরা অবাধে বালু উত্তোলন করছে। আমাদের বসতি ও জনপদকে ভাঙন ঝুঁকিতে ফেলে তারা নিজেদের পকেট ভরছে। রাস্তাঘাট নষ্ট করছে। তীর রক্ষার ব্লক তুলে বালুর ট্রাকের রাস্তা তৈরির মতো দুঃসাহসও তারা দেখিয়েছে।’
নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারা নারী আকতারা লিপি বলেন, ‘আমার এখন আশ্রয়ের স্থান নেই। নদী ভাঙন আমাকে নিঃস্ব করছে। কিন্তু কেউ আমার ঘরবাড়ি তুলে দেয় নাই। আমি চাই না আমার মতো আর কেউ ভিটাহারা হোক। এই বালু উত্তোলন বন্ধ করা লাগবে।’
আন্দোলনে অংশ গ্রহণকারী রিভারাইন পিপলের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘সরকার নদী রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাদের প্রধানতম দায়িত্ব হলো ভূমির রক্ষণাবেক্ষণ। কিন্তু তারা নিজেদেরকে প্রভুর স্থানে বসিয়েছে। আমাদেরকে দাস মনে করছে।
আমাদের টাকায় কারা এসি রুমে বসে থাকেন, কাঁচে ঘেরা গাড়িতে চড়ে বেড়ান। কিন্তু নিজেদের দায়িত্বটুকু পালন করেন না। নদী ভাঙনে নিঃস্ব মানুষদের পুনর্বাসনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই। কুড়িগ্রামকে সব সময় বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কারা বালু উত্তোলন করে তা সকলে জানে । বালু কোথায় যায় তাও সবাই জানে। যদি প্রশাসনের ন্যূনতম লজ্জা থাকে, ন্যূনতম আত্মমর্যাদাবোধ থাকে, ন্যূনতম দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ থাকে তাহলে আজকের এই কর্মসূচির পর কারা কারা বালু উত্তোলন করছে তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের নাম্বারে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এমএইচ