থামছে না বিএসএফের অপতৎপরতা
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার চাপসার সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার ভোরে আবারো ৭ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ নিয়ে গত একমাসে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৭২ জনকে পুশইন করলো বিএসএফ।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে হরিপুর উপজেলার চাপসার সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। এ সময় বিজিবি তাদের আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৪ জন নারীা ও ১ জন শিশু। হরিপুর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিএসএফ এর এ অপতৎপরতা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। তবে বিজিবি বলছে, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।
এদিকে গত ১৪ জুন একই সীমান্ত দিয়ে সাত শিশু, ১২ নারী ও সাত পুরুষকে পুশ ইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে দু’জন ভারতীয় দুই
নাগরিককে রাতেই পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে পুশ ব্যাক করে বিজিবি। এর আগে এর আগে গত ১৭ মে একই সীমান্ত দিয়ে চারশিশু, ১১ নারী
ও দু’পুরুষকে পুশইন করে বিএসএফ।
গত ১০ জুন পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দুরিয়া সীমান্ত দিয়ে দু’নারী, তিন শিশু ও দু’পুরুষকে পুশইন করা হয়। ৯ জুন পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা সীমান্ত দিয়ে তিনজন পুরুষ এবং ৩ জুন ফকিরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সাত শিশু, তিন নারী ও তিন পুরুষকে এবং ২২ মে বৈরচুনা সীমান্ত দিয়ে দু’নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ।
তারা কাজের সন্ধানে ১০ থেকে ১২ বছর আগে ভারতে দিল্লি ও পাঞ্জাবে যায় এবং সেখানেই বসবাস করে আসছিল। সম্প্রতি ভারতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তারা। ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফ এর কাছে সোপর্দ করলে বিএসএস সুযোগ বুঝে সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।
এখন পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা পাঁচজনের নামে পীরগঞ্জ থানায় পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে। বাকিদের ঠিকানা যাচাই করে পরিবারের
কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও ৮ মে চাপসার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ১০ জন বাংলাদেশে অনুপ্রেবেশ করে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে বিজিবি।
সূত্র জানায়, ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আটক করে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। পুশইন করার জন্য তারা ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ এবং হরিপুর উপজেলা বিভিন্ন সীমান্ত ব্যবহার করছে। কারণ হিসেবে সূত্র বলছে, এসব সীমান্ত এলাকা ফাঁকা এবং ফসলের মাঠ। ফাঁকা এবং ফসলের মাঠ হওয়ার কারণে সহজেই বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে পারছেন। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন সেনগাঁওয়ের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, বিএসএফ জোর করে লোকজন বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। পুশইন ঠেকাতে তারা বিজিবিকে সহায়তা করছেন কিন্তু বিএসএফ এর গুলির ভয়ে অনেকে এগিয়ে আসছেন না।
এ বিষয়ে বিজিবির ফকিরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আবু বক্কর জানান,বিএসএফ এর পুশইন ঠেকাতে তারা সাধ্যমত চেষ্টা করছেন। লোকবল কম থাকার কারণে পুরোপুরি প্রতিহত করতে পারছেন না। তবে পতাকা বৈঠক করে বিষয়টি বিএসএফকে জানানো হয়েছে। তারা আর এমনটা করবেন না বলে কথা দিয়েও কথা রাখছেন না।