পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালা বদল
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে ঘিরে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজেপির জয়ে রাজ্যজুড়ে সহিংসতা, সংঘাত এবং বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর অতর্কিত হামলা ও তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
সেই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত বাংলাভাষি মুসলিমদের ‘অবৈধ’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ
সীমান্তের লাগোয়া গ্রামগুলোর অধিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে লালমনিরহাট সীমান্তের ১৪৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এক ধরনের অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে! এদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শুধু বাংলাদেশি নয়, বরং রোহিঙ্গা বা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করে মানুষকে পুশইন করার পরিকল্পনা করছে বলে সীমান্তের একাধিক সূত্র বিষয়টি জানিয়েছেন! এই পরিস্থিতিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গোটা সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদারের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি দিন ও রাতব্যাপী টহল কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নকারী তৎপরতা প্রতিরোধ করা যায়। পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় যাতে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে সে লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়।
একই সঙ্গে চেকপোস্টগুলোয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
সীমান্ত ঘুরে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লালমনিরহাট সীমান্তে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে!
সীমান্ত অধিবাসী কামাল উদ্দিন, বকুল মিয়া ও আব্বাসউদ্দিন জানান, শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা যেকোনো সময় বাংলা ভাষাভাষীদের পুশইন করতে পারে। এতে আমরা সীমান্তবাসীরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দিন কাটাচ্ছি! তিনি আরো জানান, সম্প্রতি বিএসএফের তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বিজিবির পক্ষ থেকেও টহল বৃদ্ধি করতে দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া চেকপোস্টগুলোয় তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে কোনোভাবেই ভারত থেকে কেউ যেন অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করছে বিজিবি। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।