আখতারুজ্জামান মিয়া
দিনাজপুর–৪ (খানসামা–চিরিরবন্দর) আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়া বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বিদেশে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এটিকে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং ‘হিজরত’ হিসেবে মনে করছেন তিনি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, “এক দেশে অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হয়ে জীবন ও চিকিৎসার নিরাপত্তার জন্য অন্য দেশে গমন করাকে হিজরত বলা হয়। হিজরতের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান বাড়ে, প্রজ্ঞা বাড়ে এবং মেধাশক্তির বিকাশ ঘটে। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ পাক আমাদের নেতা তারেক রহমানকে সেই জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়েই আবার বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। তাঁকে নির্বোধ হিসেবে পাঠাননি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমীর সম্প্রতি দাবি করেছেন, আমাদের নেতা নাকি মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। উনারা পালাননি। না আপনারা পালাবেন কেন? পালাইতে তো আপনাদের হবে না।
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, আমরা যখন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, তখন আপনারা কোনো আন্দোলনে ছিলেন না। বরং আপনাদের লোকজনকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগে ঢুকিয়ে দিয়ে গুপ্ত সংগঠন তৈরি করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করেই আপনাদের নেতাকর্মীরা ‘জুলাই যোদ্ধা’ হয়ে গেছেন।
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, চ্যালেঞ্জ করেছে অনেকেই আপনাদের জুলাই যোদ্ধাদের কোন ছবি যদি দেখাতে পারেন এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেননি। আর আমাদের ৪৫০ জন মানুষ শাহাদাত বরণ করেছে। এরপরও আপনারা বলছেন—আমাদের নেতা পালিয়েছেন!
পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী বিএসসি, জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আলম তুহিন, গোয়ালডিহি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন লিটনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।