উজাড় হয়ে যাচ্ছে রংপুরের বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সামাজিক বন বিভাগের মূল্যবান গাছ। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই ভোর পর্যন্ত বন বিভাগের গাছ নানা যানবাহনে পাচার হয়ে যাচ্ছে বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার শাল্টিরহাটসহ বিভিন্ন করাতকলে। এছাড়াও কাঠ ব্যবসায়ীরা এ বনের গাছ অসাধু বন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কিনে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে ।
রংপুরের বদরগঞ্জে বিট কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বনরক্ষা কমিটির সাধারণ সদস্যদের বোকা বানিয়ে কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে যোগসাজশে জব্দ করা বন বিভাগের লাখ লাখ টাকার কাঠ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ আছে, স্থানীয় বনরক্ষা কমিটির সভাপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের দায়িত্বরত বিট কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কারণে চলছে বনের গাছ নিধনের মহোৎসব। শুধু তাই নয়, ঝড়ে উপড়েপড়া বনের গাছ লোক দেখানো উদ্ধার দেখিয়ে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করে আসছেন খোদ বিট কর্মকর্তা।
সম্প্রতি অবৈধ পথে আসা বনের প্রায় লাখ টাকার চোরাই গাছ লোহানীপাড়া এলাকার একটি করাতকল থেকে বিট কর্মকর্তা কাগজে-কলমে জব্দ করে নিজ হেফাজতে নেন। কিন্তু কয়েক দিন পরে রাতের অন্ধকারে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় সেখান থেকে ২০টি গাছের গোড়া উধাও হয়ে গেছে।
বনরক্ষা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম ও রশিদা বেগম, আ. সালাম ও রশিদুল হক অভিযোগ করেন সাহেবগঞ্জ অটো স্ট্যান্ডে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আকাশমনির গাছ কেটে ফেলেছিল। ওই গাছটি জব্দ করার জন্য মজিবুর রহমানকে অনুরোধ করার পরও তিনি আমাদের কথা শুনেননি। কিছুদিন পর গাছটি সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়।
মিঠাপুকুর রেঞ্জ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন খান আমার দেশকে বলেন, ‘লোহানীপাড়া বিট রংপুর আলম নগর অফিসের আওতায় ওই অফিসে যোগাযোগ করুন’। একই বক্তব্য দিয়েছেন রংপুর জেলা ফরেস্টের কর্মকর্তা রেজাউল করিম।
লোহানীপাড়া বিট কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণেই গাছ চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। তবে অভিযোগ আছে, গাছ চুরি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজনদের হাত রয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনজুমান সুলতানা জানান, এরকম কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সঠিক প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।