মাঝরাতে লাইভে সারজিস আলম
ঘড়িতে রাত আড়াইটা। হঠাৎ করেই ফেসবুক লাইভে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম। এ সময় ক্ষোভ ঝাড়েন অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে। বলেন, পঞ্চগড়ের কিছু সাংবাদিক নামক সাংঘাতিকদের থেকে মুক্তি লাগবে।
বুধবার দিনগত রাতে সারজিস তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইনকে দেখা যায়।
সারজিস অভিযোগ করে বলেন, আমরা দেখছি বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাদের জায়গা থেকে পেশী শক্তির প্রয়োগ করে তারা অনেক ভোটারকে ভয় দেখাইতে চায় এবং প্রতিপক্ষ দলের লোকদের হুমকি দিতে চায়। হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি পর্যন্ত করে এবং বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। এমনকি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর্যন্ত হুমকি দিচ্ছে। আজকে এরকম ঘটনাই ঘটেছে পঞ্চগড় পৌর এনসিপির সেক্রেটারি আমিনুর রহমান রিলুর সঙ্গে।
তিনি বলেন, সেখানে পঞ্চগড় জেলার সাংবাদিক নামের নির্বাচন কেন্দ্রিক কার্ডধারী কিছু লোকজন গিয়েছিল। যাদের গলায় সাংবাদিকের কার্ড ছিল, কিন্তু তারা এমন কিছু চ্যানেল, পত্রিকা বা পেইজের সাংবাদিক- যেগুলোর নাম হয়তো বাংলাদেশে কেউ কোনদিন শোনেনি। তারা তাদের জায়গা থেকে ফুল টাইম করে পলিটিক্স। ৯৯ পার্সেন্ট করে দালালি তোষামোদি, আর এক পার্সেন্ট সময়ের প্রয়োজনে হঠাৎ করে গলায় একটা কার্ড ঝুলিয়ে তারা সাংবাদিক হয়ে যায়।
সারজিস আলম বলেন, এই যারা সম্মানিত সাংবাদিকদের আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যারা ৯৯ দিন রাজনীতি করবে, দালালি করবে, তোষামোদি করবে, আর একদিন সময়ের প্রয়োজনে সাংবাদিক হয়ে যাবে- এইরকম যে লোকজন আছে, আজকে তারা তাদের জায়গা থেকে বিরাট একটা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে। পঞ্চগড়ে সাংবাদিক নামক যে সাংঘাতিক গুলো তৈরি হয়েছে তাদের থেকে আমাদের মুক্তি লাগবে। পঞ্চগড়ের পুরনো রাজনৈতিক শকুন যারা তাদের থেকে মুক্তি লাগবে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন- ‘বিএনপির সন্ত্রাসী ক্যাডাররা পঞ্চগড় পৌর-এনসিপির সদস্য সচিবকে হুমকি দিয়ে এইমাত্র ২০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে গিয়েছে!’ এই পোস্ট দেয়ার কিছুক্ষণ পরই জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইনসহ পৌর এনসিপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান রিলুর বাসায় যান।
সেখানে সারজিসের উপস্থিতি দেখে সেখানে বিএনপির স্থানীয় কর্মী সমর্থকরা জড়ো হয়ে বাকবিতন্ডায় জড়ান। অভিযোগ তুলেন- সারজিস ওই বাড়িতে টাকার বস্তা নিয়ে ঢুকেছেন।
এদিকে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঈমী ইমতিয়াজ ঘটনাস্থলে যান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।