রংপুরের বদরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতা ও নাশকতার মামলার এক আসামিসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বদরগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে বদরগঞ্জ থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নকারী সহিংস ও নাশকতামূলক ঘটনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাদশা ওসমানী নামের এক ব্যক্তি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৪/২৪।
ওই মামলার অন্যতম আসামি হলেন বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেতগাড়ী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোহাইমিন ইসলাম মারুফ। মামলায় নাম আসার পর তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বেতগাড়ী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বিএনপিতে যোগদান করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপিতে যোগদানকারী অন্যদের মধ্যে রয়েছেন— আবু তাহের মো. রকিবুল হক, মো. আশরাফ আলী, মো. খাদেমুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, বাবু হরিমল চন্দ্র সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, মাহবুবুর রহমান, রাকিব আহমেদ রবিউল, বায়েজিদ ইসলাম, জুলফিকার আলী ও আমিনুর রহমান। তারা প্রত্যেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের পদধারী ও সক্রিয় নেতা ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করি। এরপর ২১ জানুয়ারি রাতে আমিসহ ১২ জন নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের কারণে মামলার তদন্ত বা আইনি কার্যক্রমে কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটবে না বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।