জ্বালানি তেল সংকট
নীলফামারী জেলার পেট্রোল পাম্পগুলিতে তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। হাতে গোনা দু-একটি পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ১শ বা ২শ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ যানবাহন মালিকদের।
তবে কালোবাজারে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেয়ার পরেও জেলার দু একটি পাম্প ব্যাতিত সকল পাম্প মালিকরা এখনো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করছেন।
পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তেল পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না ভোক্তারা।
অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, পাম্পে তেল না মিললেও হাট বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে অবাধেই বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন তাও চড়া দামে। প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩শ’ টাকা এবং অকটেন শ’ ২০ টাকায় । সরকার নির্ধারিত মূল্য ১১৬ ও ১২০ টাকা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে অধিক দামে বিক্রি করছে।
গাড়ি চালকরা জানান, “এক সপ্তাহ ধরে পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। অথচ খুচরা দোকানে দ্বিগুণ তিনগুণ বেশি দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে।
জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক হাবিব জানান, ‘গত ৩ দিন ধরে ৬ টি পাম্প ঘুরে কোথাও তেল পাই নি।’
অপরদিকে কৃষকেরা সেচ মৌসুমে তেলের অভাবে জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে ফসল উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মেসার্স মোজাম্মেল অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের মালিক মোজাম্মেল হক জানান, চাহিদার তুলনায় তেল না পাওয়ায় মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। একই কথা বলেন, মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের মালিক শামসুল হক। সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তারাও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
নীলফামারী জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৩৫টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে এবং কোথাও তেলের প্রকৃত সংকটের খবর পাওয়া যায়নি।
জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া জানান, অবৈধ মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হবে। ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়লা সাঈদ তন্বীও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি।