হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে নির্বাচনি উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। মুহূর্তে পাল্টাচ্ছে ভোটের সমীকরণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে ততই প্রবল হচ্ছে হিসাব-নিকাশ। এই উত্তাপ ও জল্পনা-কল্পনার মধ্য দিয়েই সচেতন ভোটাররা ধারণা করছেন এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে ত্রিমুখী।
কদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া সরে দাঁড়ানোর পোস্ট ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন আমেজ। তবে শেখ সুজাত মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন।
এরপরও তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে বিতর্কের ঝড়। কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন শেখ সুজাত মিয়া বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। আবার শেখ সুজাত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবেন বলে লেখালেখি চলছে।
সত্যিই যদি শেখ সুজাত নির্বাচনি লড়াইয়ে অনড় থাকেন তাহলে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া নির্বাচনের বৈতরণি পার পেতে অনেক বেগ পোহাতে হবে। কারণ শেখ সুজাত নির্বাচনি এলাকায় পোড় খাওয়া প্রার্থী। তিনি চার দশকেরও অধিক সময় ধরে নির্বাচনি এলাকায় তৃণমূল নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
অপরদিকে, জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী বনাম ড. রেজা কিবরিয়ার টক্কর বাঘে-সিংহের লড়াই হিসেবে গণ্য হবে।
সম্প্রতি গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎকালে শেখ সুজাত নির্বাচনে থাকার বিশদ যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব ড. হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান শেখ সুজাত মিয়াকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তবে শেখ সুজাত মিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। এমনকি নির্বাচনি নানা বিতর্কের মধ্যেও নির্বাচনি লড়াইয়ে থাকার কথা ব্যক্ত করেন।
শেষ পর্যন্ত শেখ সুজাত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে না থাকলে মূল লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বনাম জামায়াত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলীর মধ্যে। এই দ্বিমুখী লড়াইয়েই নিশ্চিত হবে হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে জয়-পরাজয়।