হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থায়নে ছাগল বিতরণে অনিয়ম, আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচনের নামে নিম্নমানের, অসুস্থ ও মিশ্র জাতের ছাগল কিনে উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে বিতরণের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অন্তত ৫০টি ছাগল মারা গেছে এবং আরো প্রায় ২০০টি ছাগল অসুস্থ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের নিয়ে তালিকা তৈরি করে ছাগল বিতরণ করেছেন। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, নিম্নমানের ছাগল বিতরণের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটছে, যা সরকারের প্রকল্পের উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করছে। অনেকেই একে ‘গরিবের সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ‘সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, আমিষের চাহিদা পূরণ ও জীবনমান উন্নয়ন। তবে প্রকল্প অনুযায়ী উপকারভোগীদের উন্নত জাতের ছাগল, ঘর নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। শেড নির্মাণ সামগ্রী ও খাদ্য বিতরণ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগান, বৈকুণ্ঠপুর চা বাগান, জগদীশপুর চা বাগান, সুরমা চা বাগান ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ২০০টি পরিবারকে ৪০০টি ছাগল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এর চেয়ে কমসংখ্যক ছাগল বিতরণ করা হয়েছে।
একাধিক সূত্রে আরো জানা যায়, বিতরণের পর ২৩টি ছাগল জবাই করে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার কিছু রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ভাগবাঁটোয়ারা করেছেন। এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সুরমা চা বাগানের সবিতা উড়াংয়ের নাম বিতরণ তালিকায় থাকলেও তিনি ছাগল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
একই বাগানের রুবেল উড়াং বলেন, ‘ছাগল পাওয়ার দু’দিনের মধ্যে দুই ছাগল মারা যায়। ছাগলগুলো অসুস্থ ছিল।’
পরবর্তীতে ছাগল পুনরায় পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ছাগল আর পাননি তিনি।
নোয়াপাড়া চা-বাগানের উপকারভোগী বিপেন বুনার্জি বলেন, ‘এক ছাগল পাওয়ার দু’দিনের মাথায় একটি এবং এক সপ্তাহ পর আরেকটি মারা যায়। ছাগলগুলো আগে থেকেই অসুস্থ ছিল।’
একই এলাকার মরিয়ম বিশ্বাস বলেন, ‘দু’টি ছাগলের একটি মারা গেছে, আরেকটি এখনো অসুস্থ অবস্থায় আছে।’
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার দুলাল ঘোষ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় অন্তত ছয়টি ছাগল মারা গেছে, আরও কয়েকটি অসুস্থ আছে বিষয়টি আমরা অফিসে জানিয়েছি।’
সুরমা চা বাগান পঞ্চায়েত নেতা লিটন সাঁওতাল বলেন, বিগত সময়ে যারা সরকারিভাবে গরু-ছাগল পেয়েছে এখনো তারাই পাচ্ছে। অথচ বাগানে অনেক দরিদ্র পরিবার রয়েছে। সরকারি সুবিদা বার বার একই পরিবারে পেয়ে তাকে।
সুরমা চা বাগান পঞ্চায়েতের যুবনেতা রিপন উড়াং বলেন, তালিকায় অনেকের নাম আছে কিন্তু ছাগল পায়নি। মুখ ছিনে ছাগল বিতরণ হয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগীদের দেয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার বলেন, এই পর্যন্ত ২০টি ছাগল মারা গেছে। ঠান্ডা, সর্দি কাশি এবং পাতলা পায়খানা হয়ে ছাগলগুলো মারা গেছে। তবে ছাগল জবাই করে মাংস ভাগ করার বিষয়টি অস্বীকার করেন।