অবকাঠামো নির্মাণ শেষ
দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও একাধিক সরকারি আশ্বাসেও সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এবার সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকালে প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়ে শত শত যাত্রী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি চালু না হওয়ায় তারা প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে জেলার সাধারণ মানুষও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী প্রীতিরাজ বলেন, কয়েক বছর ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি। শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, কিন্তু কোনো বাস্তব সমাধান হয়নি। হাসপাতাল চালুর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
এর আগে গত ২১ জুন হাসপাতাল চালুর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা জানান, গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে এলেও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষক সংকট, একাডেমিক কার্যক্রমেও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
পরবর্তীকালে আন্দোলনের অংশ হিসেবে টানা কয়েক দিন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ফোনে পর্যায়ক্রমে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে হাসপাতাল চালু হচ্ছে না। ফলে একদিকে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সুনামগঞ্জের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, মন্ত্রণালয় শূন্য শিক্ষক পদের তালিকা চেয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর কলেজটি সদর উপজেলার মদনপুরে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তবে হাসপাতাল চালু না হওয়ায় শুরু থেকেই ক্লিনিক্যাল শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি দ্রুত হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এমএইচ