হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকার সেগুনগাছ চুরি করা হয়েছে। কিন্তু বন বিভাগের লোকজনকে গাছ উদ্ধার বা কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাতছড়ি বনের ডুমুরতলা এলাকা থেকে বটবৃক্ষ আকারের বিশাল দুটি মূল্যবান সেগুনগাছ চুরি হয়, যা গাছের মোতাই প্রমাণ করে। এ ঘটনার মাসখানেক আগেও সাতছড়ি বনের কাপাই, কুনিমোড়া, তেলমাছড়া এলাকা থেকে ২০-৫৫ টি মূল্যবান সেগুনগাছ চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় জিডি করে দায় এড়ানোই যেন বন বিভাগের মূল দায়িত্ব হয়ে গেছে। তবে কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। সংঘবদ্ধ গাছচোরেরা লাখ লাখ টাকার মূল্যবান গাছ কেটে হজম করে ফেলছে। আর এসব গাছ চুরি হচ্ছে একটি বড় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
বন বিভাগ, পুলিশ ও গাছচোরদের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট নিরাপদে পাচার করছে মূল্যবান সব গাছ। চোরাকারবারিরা গোপনে ওয়াটসআপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ ও রাতের আধারে বৈঠক করার কথা স্বীকার করে।
সম্প্রতি রেমা কালেঙ্গা বনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের তিনবার গুলাগুলির ঘটনা ঘটলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। বারবার পুলিশের অবহেলা বা ব্যর্থতার কারণে বনদস্যুদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক রয়েছে।
এ ব্যাপারে সাতছড়ির দায়িত্বরত রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘গত চার মাসে দুটি গাছ চুরি হয়েছে, যা আমরা মামলা করেছি, তদন্ত কার্যক্রম চলছে। আশা করছি শিগ্গির চোর ধরা পড়বে।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রেঞ্জার বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের আগে বনের বিভিন্ন স্থান থেকে আরো গাছ চুরির মামলা আদালতে চলমান।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, একটি বড় গাছ কাটা মানে শুধু একটি গাছ হারানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য প্রাণীর বাসস্থান, পাখির আশ্রয়, মাটির আর্দ্রতা ও বনজ পরিবেশের ভারসাম্য। এভাবে গাছ কাটা চলতে থাকলে সাতছড়ির জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে।
জেডএম