ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিশ্চিত করতে সিলেট বিভাগজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ আয়োজন করতে যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিভাগের চার জেলায় ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। ডগ স্কোয়াড মোতায়েনের পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সিলেটের চার জেলায় মোট দুই হাজার ৮৮১ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ১২৬ কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ১৯ সংসদীয় আসনে অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এসব আসনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকছে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’। কন্ট্রোল রুম থেকে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রের পরিস্থিতি লাইভ মনিটরিং করা হবে। সীমান্ত আসনগুলোতে ড্রোন নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি।
সিলেট জেলায় মোট এক হাজার ১৬ কেন্দ্রের মধ্যে ২১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নগরীর ২৯৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৯৫ কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। এসব কেন্দ্রে সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের ৬৬৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫১টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে দুর্গম হাওরাঞ্চলে রয়েছে ১৫৭ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কঠিন হওয়ায় হেলিকপ্টারের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার এহসান শাহ জানিয়েছেন, প্রতিটি উপজেলায় দুই প্লাটুন বিজিবি এবং এক হাজার ১০০ সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
হবিগঞ্জের ৬৪৭ কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ আর ১০৩টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। জেলা পুলিশ সুপার মুরাদ আলী জানান, প্রথমবারের মতো বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ১৭ প্লাটুন বিজিবি মাঠে রয়েছে।
মৌলভীবাজারের ৫৫৪ কেন্দ্রের মধ্যে ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা পুলিশ সুপার মনজুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কোনো গোলযোগ হলে মোবাইল টিম যাতে ১-২ মিনিটের মধ্যে পৌঁছাতে পারে, সেভাবে ফোর্স বিন্যাস করা হয়েছে।
প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে দুজন পুলিশ ও ১৩ আনসার সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩-৪ জন পুলিশ ও ১৫ আনসার সদস্য মোতায়েন থাকার কথা। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল দল সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম বলেন, নগরীর ২৯৪ ভোটকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে। কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।