হোম > সারা দেশ > সিলেট

বড়লেখার সাবাজপুর চা-বাগানের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ

উপজেলা প্রতিনিধি, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)

ছবি: আমার দেশ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সাবাজপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের সাবাজপুর চা-বাগানে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে ব্যাপক হারে গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কেটে বাগানের বাইরে বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে প্রায় ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। গত ৩ দিন ধরে বনবিভাগ কাটা গাছের মাপযোগ করছে।

স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত দুই মাসে চা-বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বৈকুণ্ঠনগর, বিপিন টিলা, আন্ডার টিলা এবং আশপাশের বিভিন্ন টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় কয়েক শ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ি ঢালে থাকা বড় বড় গাছ হাতির সাহায্যে নিচে নামিয়ে ট্রাকে করে বিয়ানীবাজারের কাঠ ব্যবসায়ী মিজানসহ স্থানীয় কয়েকজনের কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, কাটা গাছের কাঠ প্রথমে বাগানের কার্যালয় ও কারখানার আশপাশে মজুত রাখা হতো। পরে ভোরবেলা লোকচক্ষুর আড়ালে বিভিন্ন স-মিলে পাঠানো হতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি লিজের জমিতে থাকা এসব গাছ কেটে বিক্রির পেছনে প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়া ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, দিনের পর দিন এত বড় পরিসরে গাছ কাটার ঘটনা কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল। তাদের অভিযোগ, বন বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সমঝোতার কারণেই দীর্ঘদিন এ কার্যক্রম চলেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার বিকেলে বড়লেখা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে চা-বাগান পরিদর্শন করেন। সেখানে বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার পক্ষে বন বিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড কিংবা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ˆবধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

পরে সহকারী কমিশনারের নির্দেশে বড়লেখা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাগানের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। একই সঙ্গে বাগানের বিভিন্ন টিলায় পড়ে থাকা কাটা গাছের পরিমাণ নির্ধারণ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বন বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়|

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পাওয়া গেছে। আপাতত গাছগুলো যে অবস্থায় রয়েছে, সেভাবেই সংরক্ষণ করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাগানের ভেতরে থাকা সব কাটা গাছের পরিমাপ করে প্রতিবেদন দিতে বন বিভাগকে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ চা বোর্ড ও বন বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া চা-বাগানের গাছ কাটা বৈধ নয়।

বনবিভাগের বড়লেখা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা নীলোৎপল সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাগান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গাছগুলো কেটেছে। এতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকিরও আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথম দিন বিধিবর্হিভূতভাবে কাটা প্রায় ৫০০ ঘনফুট গাছ পাওয়া যায়।

এসিল্যান্ডের নির্দেশে রোববার বাগানের ভেতরে গিয়ে ১৩০টি গাছের মোতা ও আরো ২ শতাধিক ঘনফুটসহ ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেছেন। আরো অনেক কাটা গাছ রয়েছে। সোমবারও পুনরায় গিয়ে বাকিগুলো মেজার্মেন্ট করছেন। অবৈধভাবে কাটা গাছের পরিমাণ অন্তত ৩ হাজার ঘনফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে। মাপযোগ চূড়ান্তের পর প্রতিবেদন জমা দিবেন।

সাবাজপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক নাহিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, বাগানের মোট জমির আড়াই শতাংশে প্রতি বছর নতুন করে চা আবাদ (সম্প্রসারণ) করতে হয়। বাংলাদেশ টি বোর্ডের এ নির্দেশনা পালন না করলে বাগানকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়। তিনি জানান, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ১২৫ একর এলাকার রোগাক্রান্ত ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ অপসারণের জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে| অনুমোদন পাওয়ার আগে গাছ কাটা বৈধ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনুমোদন পেতে বিলম্ব হওয়ায় চা আবাদ শুরু করার সময় চলে যাচ্ছিল। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। সে কারণেই গাছগুলো কাটতে হয়েছে।

ব্যবস্থাপক আরও অভিযোগ করেন, একটি চক্র তাদের বাগানকে ব্যবহার করে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিতে চেয়েছিল। তারা সেই সুযোগ না দেওয়ায় এখন নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে কাটা গাছ বাইরে বিক্রি করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, এ অভিযোগ সঠিক নয়।

পরিবেশ ও বনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া চা-বাগানের গাছ কাটা শুধু প্রচলিত আইন ও বিধিমালার লঙ্ঘন নয়, এটি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল এবং পরিবেশের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এমএইচ

রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, ২০ দিন পর লাশ উদ্ধার

বিশ্বম্ভরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

রাস্তার পাশে পড়ে ছিল নবজাতক, হাসপাতালে ভর্তি করল স্থানীয়রা

সিলেটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থী নিহত

আ.লীগ নেতাদের সন্ত্রাসী তৎপরতায় উত্তপ্ত সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁও

গোয়াইনঘাটের চা-বাগানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩ বন্ধুর মৃত্যু

দেশের উন্নয়নে রোটারির মতো সেবাধর্মী সংগঠনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ: বাণিজ্যমন্ত্রী

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবিতে মানববন্ধন

জুন মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৯

চিকিৎসা সেবায় মেডিসিন ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী