হোম > সারা দেশ > সিলেট

নদীতে সেতু না থাকায় সাঁতরে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা

আতাউর রহমান, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ)

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই শতাধিক শিক্ষার্থী স্কুলে যাতায়াত করছে। ছবি: আমার দেশ

অল্প বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে ফুলে-ফেঁপে ওঠে রূপেশরী নদী। তখন বই-খাতা মাথার ওপর তুলে নদী সাঁতরে স্কুলে যেতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এভাবেই সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ও শ্রীপুর গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে।

বুধবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের নদী সাঁতরে পার হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী বই-খাতা ভিজে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে মাথার ওপর তুলে স্রোতের মধ্য দিয়ে নদী পার হচ্ছে। এ সময় স্রোতের তোরে শিক্ষার্থীরা ভেসে ভেসে পিছিয়ে গেলে একজন অন্যজনকে টেনে পাড়ে তুলছে।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর ও শ্রীপুর গ্রামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ওই দুই গ্রামের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যায়। বিদ্যালয়ে যেতে রূপেশরী নদী পার হওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। কিন্তু এই নদী পারাপারে নেই কোনো নৌকা, সেতু কিংবা বাঁশের সাঁকো। ফলে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরেই চলাচল করতে হচ্ছে।

ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নগ্নজিতা হাজং বলেন, ‘বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের। সামান্য বৃষ্টিতেই নদীতে পাহাড়ি ঢল নামে। তখন শিশুদের জন্য স্কুলে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আমাকেও একইভাবে নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করলেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এখানে দৃষ্টি দেয়নি। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট অনেকটাই কমবে।’

শ্রীপুর গ্রামের কল্যাণী হাজং বলেন, ‘প্রতিদিন সন্তানদের নদী পার হতে দেখে আতঙ্কে থাকি। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। তার পরও পড়াশোনার জন্য ঝুঁকি নিয়েই তাদের স্কুলে যেতে হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কয়েক গ্রামের সাধারণ মানুষও এই নদী পার হয়ে চলাচল করেন। অসুস্থ রোগী নেওয়া কিংবা জরুরি কাজে যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দীনি হাজং বলে, ‘নদী পার হতে গিয়ে অনেক সময় জামা-কাপড়ের পাশাপাশি বইও ভিজে যায়। কিন্তু স্কুলে না গেলে পড়াশোনা হবে না তাই প্রতিদিন এভাবে ভিজেই স্কুলে যাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘আমি আপনার কাছ থেকে এই প্রথম এ ব্যাপারে জানলাম। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পারাপার ঝুঁকিমুক্ত ও সহজ করার জন্যে আমি আগামীকালই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। এছাড়া এ ব্যাপারে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানাব।

এমএইচ

আকস্মিক পরিদর্শনে এমপি, তিন বিদ্যালয়ে মিলল না শিক্ষক

প্ল্যাটফর্মে কাঁদতে থাকা স্বপ্না আজ নববধূর সাজে

হাইল হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

মৌলভীবাজারে এক দিনে ২ লাশ উদ্ধার

আ.লীগ-বিএনপি সমর্থিত দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩৫

সুনামগঞ্জে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

যাদুকাটা নদীতে ভেসে উঠল নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ

মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসনের অনুদানের চেক হস্তান্তর

হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার

সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে আন্তর্জাতিক নার্সেস ডে পালিত