সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত পাঁচ দিনে জেলায় ৩৯ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে এখনো ২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
গত মঙ্গলবার দুপুরে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৩৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তার মধ্যে ১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। যার ভর্তি রয়েছেন তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা একটু আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, আমাদের এই হাসপাতালটিতে ২০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে এবং আমাদের এখানে শিশু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। আশা করি, সিলেট অঞ্চলে হামের সংক্রমণ রোধে আমরা সেবা দিয়ে যেতে পারব।
এদিকে, শিশু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
সিওমেকের প্রিন্সিপাল ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, হাম রোগের সংক্রমণে আমরাও উদ্বিগ্ন। হাম প্রতিরোধের জন্য দ্রুতই টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইসোলেশন ইউনিটসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শিশুদের শরীরে রেশ উঠার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, হাঁচি, কাশি ও নিউমোনিয়া হলে তা জঠিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম বলেন, সিলেটে হাম রোগের নমুনা পরীক্ষা হয় না এবং আগেও কখনো হয়নি। ঢাকার মহাখালীর ল্যাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা পাঠানো হয়। পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো সুরক্ষিতভাবে আইসোলেশনে রাখা হয়। তবে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, সিলেটে হামের টিকা মজুত আছে। সন্দেহজনক যে সব শিশুদের আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়েছে তাদের পরীক্ষার পর যদি হাম নিশ্চিত হয়; তবে তাদের টিকা দেওয়া হবে। তিনি জানান, শিশুদের ছয়টি টিকার সঙ্গে ৯ ও ১৫ মাসে হামের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। যদি না পেয়ে থাকে তাহলে তাদের দেওয়া হবে।