দেশব্যাপী নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলধারা পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নদী ও খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অবহেলা সহ্য করা হবে না—এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কালাসারা বিল থেকে মোতিয়ারগাঁও হয়ে কুশিয়ারা নদীমুখী নাটিকলা খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক গয়াছ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশজুড়ে খাল ও প্রাকৃতিক জলধারা পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধারের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল ও প্রাকৃতিক জলধারা ভরাট ও দখলের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, মৎস্যসম্পদ হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার পরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, নদী ও খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সেচের পানি সহজলভ্য হওয়ায় কৃষকরা অধিক জমিতে আবাদ করতে পারবেন এবং ফসলের উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি জলধারা পুনরুজ্জীবিত হলে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় জনগণের পুষ্টি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় জলাবদ্ধতা কমবে এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতিও হ্রাস পাবে।
তিনি আরও বলেন, নদী ও খাল কেবল পানির উৎস নয়, বরং গ্রামীণ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম ভিত্তি। তাই এসব জলধারা দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দাল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান রব্বানী, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা কবির হোসেন ধলা, জেলা বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম ফারুক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ এনামুল হক পীর, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য সৈয়দ এনায়েত হোসেন এবং জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে একই দিন উমরপুর ইউনিয়নের দয়ালং বিল থেকে খাদিমপুর অভিমুখী বড় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।