হোম > সারা দেশ > সিলেট

বাহুবলে আবেদন করেও সরকারি সেবাবঞ্চিত গর্ভবতী নারীরা!‎

উপজেলা প্রতিনিধি, বাহুবল (হবিগঞ্জ)

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের বাহুবলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে অনলাইনে গর্ভবতী নারীদের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দেওয়ার পরও গর্ভবতী মায়েরা সেবা পাচ্ছেন না।  উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১০ তারিখের আগেই মা ও শিশু সহায়তা (মাতৃত্বকালীন ভাতা) কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তালিকা সম্পন্ন করে ফেলায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এর ফলে অনেক গর্ভবতী নারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করেও পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। নিয়মবহির্ভূতভাবে তালিকা শেষ করায় উপজেলার শত শত সুবিধাবঞ্চিত নারী এই সরকারি সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন।

‎অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে গর্ভবতী নারীদের তালিকা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ১০ তারিখের আগেই রহস্যজনকভাবে তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরবর্তীকালে অনলাইনে আবেদন করেও অনেক প্রকৃত গর্ভবতী নারী কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। নির্ধারিত সময়ের আগেই তালিকা প্রণয়ন সমাপ্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক আবেদনকারী। ‎

‎ উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়পুর গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার স্ত্রী সিফা আক্তার নামে গর্ভবতী নারী গত ৪ জুন অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করেন এবং আবেদনকারীর সারসংক্ষেপও সংগ্রহ করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় যে নির্ধারিত কোটা পূরণ হয়ে গেছে এবং নতুন করে আবেদন গ্রহণ সম্ভব নয়।‎

‎ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, যদি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০ তারিখ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের সুযোগ থাকে, তাহলে ১০ তারিখের আগেই কীভাবে তালিকা পূর্ণ হয়ে যায়?‎

‎স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে, তালিকা ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু আবেদন গ্রহণের সরকারি সময়সীমা শেষ হয়নি। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।

‎একাধিক আবেদনকারী দাবি করেন, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ চলমান থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে অনেককে জানানো হচ্ছে নতুন করে আর কোনো নাম যুক্ত করার সুযোগ নেই। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ‎

‎সচেতন মহলের মতে, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় গর্ভবতী নারীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান।

‎এ বিষয়ে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা এ টি এম মোহিতুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচন নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হওয়ার কথা। কোনো আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার পরও যদি কাগজপত্র জমা দিতে না পারেন বা নির্ধারিত সময়সীমার আগেই তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার অভিযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এমএইচ

গুজব ছড়াবেন না, সত্য তুলে ধরুনঃ এমপি কামরুল

নরসিংদী জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

বাহুবলে মাদকাসক্ত যুবককে এক বছরের কারাদণ্ড

‎পাহাড় কাটায় ইউপি সদস্যকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সিলেট বিএনপির আনন্দ মিছিল

পুশইন বন্ধের দাবিতে জুড়িতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কয়েস লোদী

আট বছরেও নিজস্ব ভবন হয়নি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার

সড়কের পাশে উদ্ধার হওয়া সেই শিশুটি হাসপাতাল থেকে চুরি

মাধবপুরে আলেম-উলামাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান