বছরের পর বছর জমে থাকা আস্থার সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া দাবির বেড়াজালে স্থবির হয়ে পড়া বীমা খাতে এবার বড় ধরনের সংস্কার ও স্বস্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নতুন করে আরো পাঁচটি জীবন বীমা কোম্পানির গ্রাহক তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বীমা দাবির টাকা পেতে যাচ্ছেন। আগামী ৫ অক্টোবর এসব কোম্পানি তাদের বীমা দাবি পরিশোধ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স চার কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ছয় কোটি ৭৮ লাখ টাকার বীমা দাবি পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আট কোটি ৮২ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করবে। অন্যদিকে সানফ্লাওয়ার লাইফ ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে আইডিআরএর সঙ্গে আজ রোববার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) উদ্যোগে দুদফায় আট হাজার ৪১৭ জন গ্রাহককে ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় সাতটি জীবন বীমা কোম্পানির মাধ্যমে ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ১৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় ২৩ কোটি তিন লাখ টাকা পলিসিধারীদের পরিশোধ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শহিদুল ইসলাম জাহীদ আমার দেশকে বলেন, বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক, তবে এ প্রক্রিয়া দীর্ঘ মেয়াদে চালু রাখা যাবে কি না, তা দেখতে হবে। গ্রাহকের ৭,০০০ কোটি টাকার বেশি বীমা দাবি রয়েছে, যা শুধু কোম্পানিগুলোর সম্পদ বিক্রি করে মেটানো সম্ভব নয়। তাই কর্তৃপক্ষের অবস্থান আরো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ব্যাংকের আমানতকারীদের সরকারিভাবে সহায়তার মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। সে বিষয়ে আইডিআরএ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জানানো উচিত। তিনি বলেন, ব্যক্তি গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করা হচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিষয় কী করবে তা-ও পরিষ্কার করা দরকার বলেও জানান তিনি।
আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, পলিসিধারীদের ন্যায্য দাবি সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা আইডিআরএর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বীমা খাতে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে দাবি নিষ্পত্তির গতি ও স্বচ্ছতা আরো বাড়াতে হবে। পলিসিধারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আইডিআরএ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।
আইডিআরএর তথ্যানুযায়ী, প্রথম দফায় সাত জীবন বীমা কোম্পানির ২,৫৪৯ গ্রাহককে মোট ১৪ কোটি ৫১ লাখ তিন হাজার ১৪৬ টাকা ৫৮ পয়সার বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আট গ্রাহককে চার লাখ ৫১ হাজার ৮২৬ টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ৫২৮ গ্রাহককে পাঁচ কোটি ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৯ টাকা, গোল্ডেন লাইফের চার গ্রাহককে দুই লাখ ৫১ হাজার ৪৭৬ টাকা, হোমল্যান্ড লাইফের ১৫ গ্রাহককে ১০ লাখ ৬৬ হাজার ১৯১ টাকা, পদ্মা ইসলামী লাইফের ৬২৪ জন গ্রাহককে এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩ টাকা, প্রগ্রেসিভ লাইফের ১,৩৫০ জন গ্রাহক ছয় কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ১৬৫ টাকা এবং সানফ্লাওয়ার লাইফের ২০ জন গ্রাহককে দেওয়া হয় পাঁচ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা।
অন্যদিকে দ্বিতীয় দফায় ৫,৮৬৮ জন গ্রাহকের ২৩ কোটি তিন লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩,৬০০ গ্রাহক ১২ কোটি টাকা, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১,১৪৫ গ্রাহক চার কোটি ৯৮ লাখ আট হাজার ৫১৪ টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৫৮০ জন গ্রাহক পাঁচ কোটি টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৩০০ গ্রাহক ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২৪৩ গ্রাহক ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭ টাকার বীমা দাবি পেয়েছেন।