ভেনামি চিংড়ি চাষের পোনা আমদানি ও চাষের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ খুব দ্রুত উঠে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারের কথা চিন্তা করে বর্তমান সরকার ভেনামি চিংড়ি চাষের স্থগিতাদেশ উঠিয়ে দিতে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে চিংড়ি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হাজারো খামারি দেশীয় প্রজাতির গলদা ও বাগদা চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল। এ ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মৎস্য খাতের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে ভেনামি চিংড়ি।
তবে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ভেনামি চিংড়িকে আমদানিনির্ভর প্রজাতি উল্লেখ করে এর পোনা আমদানি ও চাষ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।
ইতোমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভেনামি চিংড়ি চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাণিজ্যিক প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্রুত ভেনামি চিংড়ি পোনা আমদানির স্থগিতাদেশ উঠে যাচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভেনামি চিংড়ি চাষের বেশকিছু উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক রয়েছে। সাধারণ চিংড়ির তুলনায় অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়, দ্রুত বর্ধনশীল এবং ৮০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করার উপযোগী হয়। অন্যান্য চিংড়ির তুলনায় এর উৎপাদন খরচ অপেক্ষাকৃত কম এবং এটি আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষ করা সম্ভব।
সূত্র আরো জানায়, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, ফেনী ও কক্সবাজার জেলায় মোট ৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে চিংড়ি চাষের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা, খুলনা ও কক্সবাজার জেলায় সাতটি হ্যাচারিকে ভেনামি চিংড়ির পোনা (পিএল) উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যারা ব্রুড চিংড়ি ও খাদ্য আমদানি করতে চাচ্ছেন, তাদের আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদিত মোট চিংড়ির প্রায় ৮০ শতাংশ ভেনামি চিংড়ি। তাই এর রপ্তানি সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। ভারত, ভিয়েতনাম, ইকুয়েডর ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো এ চিংড়ি চাষ করে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে। বিপরীতে বাংলাদেশ শুধু বাগদার ওপর নির্ভর করায় বিশ্ববাজারের বড় একটি অংশ হারাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের আড়াই লাখ হেক্টর চিংড়ি ঘেরের মাত্র ৩০ শতাংশেও যদি ভেনামি চাষ করা যায়, তবে বছরে মৎস্য খাত থেকে রপ্তানি আয় দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমান রপ্তানি আয়ের চেয়ে এটি অন্তত চারগুণ বেশি। বিশ্ববাজারে ভেনামির চাহিদা প্রতি বছর গড়ে ৭ শতাংশ হারে বাড়ছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জিয়া হায়দার চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ভেনামি চিংড়ি চাষ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল মিটিং হয়। সেখানে স্থগিতাদেশ ওপেন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মিটিংয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
মহাপরিচালক আরো বলেন, রেজল্যুশন না হলে কিছু বলা যাচ্ছে না। আশা করছি স্থগিতাদেশ উঠে যাবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আমার দেশকে বলেন, চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। আমরাও চিংড়ি চাষ বৃদ্ধি করতে কাজ করছি। তিনি বলেন, এটা নিয়ে বেশ কয়েকটি মিটিং করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে ভালো মানের চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি করে রপ্তানি করা যায়।