আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। টানা চাপের মুখে বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রায় দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পদক্ষেপ, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই স্বর্ণের বাজারে এ নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ দশমিক ৬২ ডলারে। দিনের একপর্যায়ে এটি ২৬ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়েও নেমে যায়।
এদিকে জুন মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও কমেছে। এ সময় প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য ১ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ৩৭৭ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের মান এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসনের ভাষ্য, শান্তিচুক্তির বিষয়ে আশাবাদী বার্তা এলেও বাস্তবে অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখনও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকেই ঝুঁকছেন। এতে স্বর্ণের বাজারে চাপ আরো বেড়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে ইরানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালায়, যা বাজারে অস্থিরতা আরো বাড়িয়ে তোলে।
এআরবি