ঈদের পর জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝিতে রাজধানীর বাজারে মৌসুমি ফলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস ও তালের মতো মৌসুমি ফলের ব্যাপক সমারোহের পাশাপাশি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে জাম, লটকন, বেতফল, গাব, জামরুল, আতাফলসহ বিভিন্ন রকমের রসালো ফল। তবে বাজারে ক্রেতা কম থাকায় এসব ফলের দাম এখন যে কোনো সময়ের তুলনায় কম।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের ছুটির কারণে এখনো লোকজন গ্রাম থেকে রাজধানীতে ফিরেনি। ফলে এখন কম দামেই আম-লিচু বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ও ফুটপাতে হাতেগোনা যে কজন ক্রেতা ফল কিনছেন তারা অনেক দোকান ঘুরে দর কষাকষি করে ফল কিনছেন।
বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ী আলিমউদ্দিন আমার দেশকে বলেন, মৌসুমের একদম শুরুর দিকে দাম কিছুটা বেশি থাকলেও জ্যৈষ্ঠের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে সব ধরনের ফলের সরবরাহ বেড়ে দাম কমতে শুরু করেছে। এখন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর ফল রাজধানীর বাজারে ঢুকছে। বিশেষ করে আম ও লিচুর ভরপুর মৌসুম শুরু হওয়ায় কারওয়ানবাজার, বাবুবাজার বাদামতলীসহ রাজধানীর পাইকারি আড়তগুলোতে প্রচুর ফল আসছে। কিন্তু ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে এখনো লোকজন রাজধানীতে ফেরেনি; এতে ক্রেতার উপস্থিতি কম হওয়ায় কম দামেই ফল বিক্রি হচ্ছে।
গত দুই দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাজারে ও পাড়া-মহল্লায় নানান ফলের পসরা সাজিয়েছেন। ক্রেতারা বলছেন, মৌসুমে প্রচুর ফল বাজারে এসেছে; দামও অন্যবারের তুলনায় কিছুটা কম।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাদামতলী, বাবুবাজার, গুলিস্তান, কারওয়ান বাজার ও কেরাণীগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা এলাকার গোপালভোগ, লেংড়া, আম্রপালি আমই বেশি বিক্রি হচ্ছে। এসব আম ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা পাল্লা (পাঁচ কেজি) অর্থাৎ, ৫৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের আম বিক্রেতা মুকুল আমার দেশকে জানান, এখন বাজারে যে আম দেখছেন, তার বেশির ভাগ সাতক্ষীরার আম। রাজশাহীর আম এখনো বাজারে আসেনি। এই আমকে অনেকে রাজশাহীর গোপালভোগ, হিমসাগর ও লেংড়াসহ নানা নামে বিক্রি করছেন। আমের কোয়ালিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা অঞ্চলের আমই মৌসুমের শুরুতে বাজারে আসে। ঈদের আগে আম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন মানভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ক্রেতা কম, পচনশীল এই ফলে ঝুঁকি এড়াতে কম দামেই ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা।
পলাশ নামে অপর ফল বিক্রেতা বলেন, আমের দাম অনেক কমেছে। ঈদের আগে যে আম ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি তা এখন ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছি। দাম আরো কমতে পারে। আবার ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে লোকজনের উপস্থিতি বাড়লে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
এদিকে গতকাল বিকালে কারওয়ানবাজারে দেশি ছোট ও মাঝারি আকারের ১০০ লিচু বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া বোম্বে জাতের লিচু ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চায়না থ্রি জাতের লিচু, এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে।
স্থানীয় লিচু বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, আগে ৬০০ টাকায় যে লিচু বিক্রি করেছি এখন তা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এরপরও সেভাবে ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে চায়না থ্রি জাতের লিচু প্রতি শ’ এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কালোজাম বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে। কচি তাল ২০ থেকে ৩০ টাকা, আনারস ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারের পাশাপাশি নগরীর প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও ফুটপাতে ভ্যানে করে মৌসুমি এসব ফল বিক্রি হচ্ছে। এদিকে জাতীয় ফল কাঁঠাল বাজারে আসলেও এখনো পরিমাণে কম; তাই দাম একটু বেশি। গতকাল বিকালে কারওয়ানবাজারে আশফাক হোসেন নামে এক ফল বিক্রেতা মাঝারি আকারের কাঁঠালের দাম চাচ্ছিলেন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। বড় আকারের কাঁঠাল এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ফলের বাজারের এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতারা স্বস্তি অনুভব করছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী বুলবুল আহমেদ জানান, বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলেও ক্রেতা কম। তাই তুলনামূলক কম দামে ফল পাওয়া যাচ্ছে। এ সুযোগে সন্তানদের জন্য একটু বেশি করেই ফল কিনছি।
এদিকে মধুমাসে মৌসুমি ফল বাজারে আসায় আমদানি ফলের দাম কমেছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী আক্কাস আলী। তিনি বলেন, মৌসুমি ফলের কারণে আমদানি করা সব ধরনের ফলের দাম কমেছে। তিনি জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫০ টাকার আপেল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ৩৬০ টাকার ডালিম ৩০০ টাকা, ৫৫০ টাকার আঙুর ৪০০ টাকা, ২২০ টাকার মাল্টা ১৮০ টাকা এবং ৩০০ টাকার কমলা ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, মৌসুমি ফলের সরবরাহ বাড়লে আমদানি ফলের দাম আরো কমে যেতে পারে।