হোম > রাজধানী

রাঙা রমনায় বর্ষবরণের উচ্ছ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চৈত্রের খরতাপ ঝেড়ে বৈশাখের সজীবতায় মাতোয়ারা হয় লাখো মানুষ। পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর বরণ করে নিতে কমতি হয়না উৎসব আয়োজনে। এবারও বাংলা বর্ষপঞ্জিতে ১৪৩১ সনকে বিদায় জানিয়ে ১৪৩২ সনের দিন গণনার শুরুতেই উচ্ছসিত মানুষের উৎসব আয়োজনে ঢল নামতেই দেখা যায় রাজধানীর রমনায়।

সোমবার ভোর ৬টার পর রমনার বটমূলে শুরু হয় বর্ষবরণের প্রধান আয়োজন ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসব। ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ বার্তাকে প্রধান করে এই আয়োজন সাজায় ছায়ানট। যেখানে নারী-পুরুষ মিলে প্রায় দেড় শতাধিক শিল্পী অংশ নেয়। পরিবেশন করা হয় ৯টি সম্মিলিত গান, ১২টি একক কণ্ঠের গান ও ৩টি পাঠ সহ মোট ২৪ টি পরিবেশনা।

এদিন লাল-সাদা পাঞ্জাবিতে পুরষ, নারীদের শাড়ি আর মাথায় ফুলের আভায় বৈশাখী সাজে মাতেন সবাই। ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের বিভেদ ভুলে সবাই মিলে একাকার হয়ে উঠেন উৎসব আনন্দে।রমনার সবুজ চাদরে জেগে উঠে প্রাণের জোয়ার। নব আনন্দে মুখরিত হয় শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই। রঙে রঙে রঙ্গীন হয় উৎসব ঐতিহ্যের এই প্রাঙ্গণ।

কতটা রঙ্গীন এই উৎসব তার উত্তর মেলে চারদিকে তাকালে। দেশীয় ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি পোষাক পরে উৎসব উদযাপনে ব্যস্ত সবাই। বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু ও আত্মীয়দের নিয়ে তৈরি হয় সম্পর্কের সেতুবন্ধনের মিলনমেলা। শহুরে শত ব্যস্ততাকে পাশ ঠেলে বাবা-মা সহ আত্বীয়দের কাছে পেয়ে একটু বেশিই চঞ্চল হয়ে উঠে বাচ্চারা। তাই তো ছুটে চলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। আইসক্রিম, চকলেট আর নানা খেলনাসামগ্রীর আবদার নিয়ে ছুটে চলে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে।

সেই আবেগই যেন প্রকাশ পেল মানহার চোখে মুখে। উচ্ছাস ঝরে পড়লো তার কথায়। ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় তার প্রস্তুতি। সাদা আর লাল রাঙা পোষাকে কপালে একটি লাল ছোট্ট টিপ। হাতে লাল চুড়ির সঙ্গে মিলিয়ে পায়ে লাল জুতো।

মানহা রাজধানীর মালিবাগ সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী। বাবা-মা কে সাথে নিয়ে এসেছেন রমনায় বর্ষবরণ উদযাপনে। রমনায় এসে দেখছেন ছায়ানটের অনুষ্ঠান, ঘুরছেন একদিক থেকে আরেকদিকে। এর মধ্যেই কিনে ফেলেছে চুড়ি, ঢোল ও বাশি।

মানহা আমার দেশ কে বলে, সেই সকালে ঘুম থেকে উঠে, রেডি হয়ে বাবা-মার সাথে আসছি। এখানে এসে খুব মজা লাগছে, ভাল লাগছে। নাচ গান হচ্ছে সেগুলো দেখছি। বিভিন্ন দোকান বসছে সেখানে যাচ্ছি, কিনেছি চুড়ি, ঢোল ও বাশি।

একই উচ্ছাস পাওয়া যায় রিদান রশিদের কথায়ও। মালিবাগ হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সরকারি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ে রিদান। রিদান আমার দেশ কে বলে, এখানে এসে অনেক ভাল লাগছে। নতুন কাপড় কেনা হইছে, এখানে এসে বিভিন্ন কিছু দেখছি, আইসক্রিম খাচ্ছি। তবে পান্তা ভাত খাওয়া হয়নি এখনো, বাসায় গিয়ে খাবো।

শুধু বাচ্চারা না, এমন উচ্ছাসের দেখা মেলে সব বয়সী, সব পেশার, সকল ধর্মের মানুষের মধ্যেই। যার প্রকাশ আমরা দেখতে পাই ষাটোর্ধ আসিয়া আক্তার খানমের মধ্যে। দেশের জ্যৈষ্ঠ এই নাগরিক আমার দেশ কে বলেন, নববর্ষ পালনে আগের মধ্যে বর্তমানের পরিবর্তন তেমন কিছু দেখছি না। আবেগটা একই রকম আছে। পোষাক পরিচ্ছদে কিছুটা পরিবর্তন আসছে, অফিসিয়াল কার্যক্রমে কিছুটা পরিবর্তন আসছে। তবে নতুনদের মধ্যে নববর্ষ নিয়ে উচ্ছাস আগের মতই দেখি।

এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের জন্য রমনার বটমূলে পূর্ব-পশ্চিমে অর্ধবৃত্তাকারে ৭২ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ করা হয়েছে। নববর্ষবরণে একক ও সম্মিলিত গান পরিবেশনা শেষে নববর্ষের কথন পাঠ করেনন ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি সারওয়ার আলী। পরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, রমনার বটমূলে দেশের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের এই আয়োজন ১৯৬৭ সাল থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট। এবার ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে গত তিন মাস ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে চলে গানের মহড়া। আর ৮ এপ্রিল রমনার বটমূলে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়।

নিউমার্কেট এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত

অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাপারে সরকার নীতিমালা তৈরি করছে: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডেমরায় বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ১

আর্থিক অনিয়মের প্রতিবাদে চাকরিচ্যুত, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দুই কর্মকর্তার অনশন

ট্রাস্ট ব্যাংকের ইউনিয়নপে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান

রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৮৬

দক্ষিণগাঁও ও নন্দীপাড়ায় রাস্তা উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

শিক্ষামন্ত্রীর সাথে তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৫

রাজধানীতে ডিবির ব্লক রেইড, ৫৮ মাদকাসক্ত গ্রেপ্তার