বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬’। পর্যটনের প্রচার, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) মেলার ১৪তম আসরের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত এ মেলার এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়— 'এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন' (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত পর্যটন, টেকসই গন্তব্য)।
আয়োজক দেশ বাংলাদেশের পাশাপাশি মেলায় অংশ নিচ্ছে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, সৌদি আরব ও আজারবাইজান। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল অংশীদার দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পাকিস্তানে নিযুক্ত হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কোইনোলেট।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত আজ নতুন যুগে প্রবেশ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সচিব আরও বলেন, বিটিটিএফের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন চর্চাকে উৎসাহিত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে দেশের অবস্থান শক্ত করতে সরকার, বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই মেলা চলবে। মেলায় দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন্স, হোটেল, রিসোর্ট ও ভ্রমণসেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এখানে খাতসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।