‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’—এমন মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে আলোচনায় আসা হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে বিদেশ যাওয়ার সময় আটকে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া হয়।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড় ছয়টার দিকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (ইওয়াই-৩৮৩) আবুধাবি হয়ে জামাইকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছিলেন মাহদী। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তার পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হলে সিস্টেমে তার নাম ‘স্টপ-লিস্টেড’ হিসেবে শনাক্ত হয়। এরপর তাকে ইমিগ্রেশন প্রসিকিউশন অফিসে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল আহসান জানান, মাহদী হাসানকে আটক করা হয়নি, তবে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাকে বিদেশ যেতে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইমিগ্রেশন পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় (জিআর-১/২০২৬) দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ছিল।
যে বক্তব্যে আলোচনায় মাহদী
চলতি বছরের জানুয়ারিতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দায়িত্বরত পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাহদী হাসান ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম।”
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে আটকের পর ছাড়িয়ে নিতে মাহদীসহ আন্দোলনকারী বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় যান। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরদিন ৩ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং সরকারি কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়। তবে পরদিনই আদালত থেকে জামিন পান তিনি। পরবর্তীতে ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে মাহদী দাবি করেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অসাবধানতাবশত কথাটি তার মুখ থেকে বের হয়ে গিয়েছিল।
উল্লেখ, এর আগে গত আগস্টে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ কর্মসূচির জেরে হবিগঞ্জের কোর্ট মসজিদ এলাকা থেকে মাহদীকে আটক করেছিল পুলিশ। ২১ ঘণ্টা পর মুচলেকায় ছাড়া পান তিনি। এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরেও তিনি ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে পড়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।