বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) প্রস্তাবিত ‘সাংগঠনিক কাঠামো (সেট-আপ) এবং ‘চাকরি প্রবিধানমালা ২০২৬’ প্রণয়নে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মতামত উপেক্ষা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে।
রোববার দুপুরে ঢাকার আব্দুল গনি রোডে বিদ্যুৎ ভবনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা শেষে ওয়াপদা ভবনের সামনে বিশাল মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (ডিপ্রকৌস) সদস্যরা।
এ সময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সৃষ্টির পর থেকে পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা না থাকায় গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগ এক আদেশের মাধ্যমে নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোনো আলোচনা ছাড়াই একপাক্ষিক ও বৈষম্যমূলক একটি খসড়া প্রবিধানমালা এবং সেট-আপ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। বর্তমানে এটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
আন্দোলনরত প্রকৌশলীরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধান ৪টি দাবি উত্থাপন করেন:
১.পদোন্নতির কোটা নিশ্চিতকরণ তথা সার্ভিস রুল-১৯৮২ অনুযায়ী উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৩.৩৩% পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
২.অযৌক্তিক পদ বিলোপ তথা অযৌক্তিকভাবে সৃষ্ট ৩২৭টি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা অথবা সহকারী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর মোট পদের এক-তৃতীয়াংশ পদোন্নতি কোটা হিসেবে নির্ধারণ করা।
৩.পিরামিড কাঠামো বাস্তবায়ন তথা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সকল দপ্তরে কাজের পরিধি অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পদ সৃষ্টি করা।
৪.পদোন্নতির হার বৃদ্ধি তথা দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে পদোন্নতির কোটা ৩৩% থেকে বাড়িয়ে ৫০% এ উন্নীত করা।
প্রতিবাদ সভায় ডিপ্রকৌস-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির কিছু সদস্য আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করছেন। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং জ্বালানি সংকটের এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ সেক্টরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ১৬টি সভা শেষে তৈরিকৃত এই সুপারিশ যদি বৈষম্যহীন না হয়, তবে সারাদেশে কর্মরত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মাঝে বিরাজমান অসন্তোষ থেকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও বৈষম্যহীন প্রবিধানমালা প্রণয়নে তারা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এবং বর্তমান সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি পালনের ইঙ্গিত দিয়েছেন সমিতির নেতারা।
এএস