বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলার আসামি মুশফিক উদ্দীন টগরকে একটি রিভলভার ও ১৫৬ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার লালবাগের আজিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাব মিডিয়া সেন্টারে র্যাব-৩ অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
২০০২ সালে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাবেকুন নাহার সনি। এত বছর পরও আলোচিত ওই হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি পলাতক।
মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ার আক্ষেপ নিয়েই গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি মারা যান সনির বাবা হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া।
২৩ বছর আগে বুয়েট ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান ও ঢাবিসলিমুল্লাহ মুসলিম হলের তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হন সনি। দরপত্র নিয়ে ওই সংঘর্ষ হয়।
সনি সেদিন ক্লাস শেষে বুয়েটের হলে ফিরছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে তার নিহত হওয়ার পর সারাদেশে আন্দোলন হয়।
ঢাকার বিচারিক আদালতে সনি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ২০০৩ সালের ২৯ জুন। রায়ে ছাত্রদলের নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর, মোকাম্মেল হায়াত খান ওরফে মুকিত ও নুরুল ইসলাম ওরফে সাগরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৫ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরে ২০০৬ সালের ১০ মার্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ জনের সাজা কমিয়ে তাদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত। পাশাপাশি যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে দুজনকে খালাসও দেওয়া হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত ছয় আসামির মধ্যে চারজন কারাগারে আছেন। মোকাম্মেল ও নুরুল এখনও পলাতক। আরেক আসামি মুশফিক উদ্দিন টগর কারাভোগের পর মুক্ত হলে বৃহস্পতিবার অস্ত্রসহ আবারও গ্রেপ্তার হয়।