ফুল ও গ্রাফিতিতে বদলে গেল পরিবেশ
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাত এখন নতুন এক রূপে সেজেছে। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধ দূর করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে নান্দনিক পরিবেশ। সারি সারি ফুলের টব, সৌন্দর্যবর্ধক গাছ এবং দেয়ালজুড়ে বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতিতে বদলে গেছে পুরো এলাকা।
এই উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম আনুষ্ঠানিকভাবে এ দখলমুক্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকা দেশের মুখমণ্ডল, তাই একে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখা সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা হবে।
হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে যত্রতত্র ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না। তবে হকার ও রিকশাচালকদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স নিতে হবে এবং এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি করে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে সীমিত সংখ্যক হকারকে বসার অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নৈশকালীন মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় মোকাররম ভবন থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত প্রায় ১৩৫০ ফুট এলাকায় গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে ৫৫০টি ফুলের টব এবং রোপণ করা হয়েছে ৬৫০টি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ। এছাড়া অপেক্ষমাণ স্বজনদের জন্য ৫০টি বসার আসন এবং পাহাড়ের আদলে দুটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার জানান, এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প। জনগণের ইতিবাচক সাড়া ও সহযোগিতা পেলে পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ সিটির অন্যান্য ব্যস্ত ফুটপাতেও একই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এআরবি