ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ স্মারক বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ২০১৯-২০২০ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের এ বৃত্তি দেওয়া হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এককালীন ১২ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস সংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে চেক ও সনদ তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আলী আশরাফ, অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে এ ধরনের বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আরও মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।
বৃত্তিপ্রাপ্ত ১২ শিক্ষার্থী হলেন—তানজিম তাসনিম, মো. মাশরুর হক নাফিস, ফারিয়া ইসলাম, তাবাসসুম এলাহী, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, কাওসার উদ্দিন মাহমুদ, মো. হিমেল রহমান, কাজী ফারিহা ইকবাল, ঐশ্বরিয়া সঞ্জুক্তা রায় প্রমা, মুহাম্মদ এস্তিয়াক হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ শিবলী ও নিশাত তাসনিম। প্রত্যেককে এককালীন ১২ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ স্মারক বৃত্তি তহবিল ২০০৯ সালের ৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। ডা. নেপিশা বেগম এই তহবিলের দাতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নকালে এককালীন ১২ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করাই এ তহবিলের উদ্দেশ্য।
সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ ১৯৯৯ সালের ১৮ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইআইএসএস) গবেষণা কর্মকর্তা এবং দ্য ডেইলি স্টার ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগে (সিপিডি) গবেষক হিসেবে কাজ করেন।
২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে এশিয়া ফেলোশিপ অর্জন করে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়ায় (ইউকেএম) গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত হন। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার বিষয়ে তাঁর গবেষণার আগ্রহ ও অবদান ছিল। ২০০৬ সালের ১ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পরও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সাময়িকীতে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।