হোম > কর্পোরেট

জাতীয় গবেষণা প্রতিবেদন: দেশে মাদকসেবী ৮২ লাখ

আমার দেশ অনলাইন

বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরণ ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ (Dissemination Meeting of Estimation of the Number and Category of Persons Abusing Drugs and Associated Factors. A Nationwide Study in Bangladesh) করা হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হল, রুম ৫০৪ এ আয়োজিত এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ হাসান মারুফ। প্রধান গবেষক (প্রিন্সিপাল ইনভেসটিগেটর) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ এর সম্মানিত ডীন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী।

বিএমইউ এর মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম তাঁর বক্তব্যে মাদক প্রতিরোধে পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট এবং আরো গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটা ভাবার কারণ নাই যে কিছু সংখ্যক খারাপ মানুষ মাদকাসক্ত এবং আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মাদক থেকে দূরে রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মাদাকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি। সবাইকে সচেতন হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবেই এই ঝুঁকিকে মোকাবিলা করতে হবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ হাসান মারুফ বলেন, বর্তমান সময় ও বাস্তবতা হলো দেশের মানুষ মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সামাজিক আন্দোলন, একটি সামাজিক যুদ্ধের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে মাদক এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মাদক নির্মূলে পরিবার থেকেই হোক প্রতিরোধ তা নিশ্চিত করতে হবে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসাসেবা বিস্তারের লক্ষ্যে ঢাকা বাদে আরো ৭টি বিভাগে ২০০ শয্যা করে ৭টি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর প্রকল্প বর্তমান সরকার পাশ করেছে।

বিএমইউ এর সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার তাঁর বক্তব্যে মাদক সরবরাহের উৎস ও চাহিদা কমানোর উপর গুরত্বারোপ করে বলেন, শিশুরা-তরুণরা যারা জীবনটাকে বুঝতে পারার আগেই মাদকাসক্ত হচ্ছে অবশ্যই আমাদের সবাইকে মিলে এই শিশু ও তরুণ সমাজকে মাদক সেবনের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই হবে।

বাংলাদেশে মাদক ব্যবহার একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত মাদক ব্যবহার সম্পর্কিত জাতীয় গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হযেছে, দেশে বর্তমানে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরণের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। এই গবেষণায় সিগারেট সেবনকে মাদক ব্যবহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গবেষণাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC) এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (BMU) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড ((RMCL) যৌথভাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে গবেষণা কার্যক্রমটি সম্পন্ন করে। গবেষণায় Network Scale-Up Method (NSUM) ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, বিভাগভেদে মাদক ব্যবহারের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। মযমনসিংহ (৬.০২%), রংপুর (৬.০০%) ও চট্টগ্রাম (৫.৫০%) বিভাগে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে রাজশাহী (২.৭২%) ও খুলনা (৪.০৮%) বিভাগে তুলনামূলকভাবে কম হার লক্ষ্য করা গেছে। সংখ্যার বিচারে সর্বাধিক মাদক ব্যবহারকারী বসবাস করছে ঢাকা বিভাগে (প্রায় ২২.৯ লাখ), এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১৮.৮ লাখ) ও রংপুর বিভাগ (প্রায় ১০.৮ লাখ)। বিভাগভিত্তিক মাদক ব্যবহারকারীর আনুমানিক সংখ্যা বরিশাল ৪,০৪,১১৮ জন, চট্টগ্রাম ১৮,৭৯,৫০৩ জন, ঢাকা ২২,৮৭,৯৭০ জন, খুলনা ৭,২৬,২১০ জন, ময়মনসিংহ ৭,৬০,৮১২ জন, রাজশাহী ৫,৬৬,৫০৯ জন, রংপুর ১০.৮০,৫৮৮ জন এবং সিলেট ৪,৮৮,১৪১ জন। সমগ্র দেশ (যেকোনো ধরণের মাদক ব্যবহারকারী) ৮১,৯৪,৬৫১ জন। মাদক প্রকারভেদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গাঁজা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক। প্রায় ৬১ লাখ মানুষ গাঁজা ব্যবহার করে। এরপর রযেছে ইয়াবা বা মেথামফেটামিন (প্রায় ২৩ লাখ), অ্যালকোহল (২০ লাখ), কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ এবং হেরোইন। ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার, তবে এই ধরণের মাদক গ্রহণকারীদের এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণায় জানানো হয়, একজন মাদক সেবককারী মাসে কমবেশি ছয় হাজার টাকা ব্যয় করেন।

মাদক ব্যবহারের ধরণ অনুযায়ী মাদক ব্যবহারকারীর আনুমানিক সংখ্যা হলো গাঁজা (ক্যানাবিস) ৬,০৭৯,৯১৪ জন, মেথামফেটামিন (ইয়াবা) ২,২৯২,৭০৫ জন, অ্যালকোহল ২,০২০,৯৭৭ জন, কোডিন ফসফেট (কফ সিরাপ) ৩৩৯,৬৬০ জন, হেরোইন ৩২২,৬৭৭ জন, ঘুমের ওষুধ ৩০৫,৬৯৪ জন, ১৫২,৮৪৭ ইনহেল্যান্ট (যেমন: আঠা, পেইন্ট থিনার) এবং ৩৯,০৬১ ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করে। এছাড়া ১১,৮৮৮ ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ৫,০৯৫ এলএসডি (খঝউ) এবং ১৩,৫৮,৬৪ অন্যান্য মাদক ব্যবহার করে।

আরেকটি বিষয় একজন ব্যক্তি একাধিক ধরনের মাদক ব্যবহার করতে পারে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, মাদক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই তরুণ বয়সের। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮-১৭ বছর বয়সে বা শিশু বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। ৫৯ শতাংশ ব্যবহারকারী ১৮-২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে।

বেকারত্ব, বন্ধুমহলের প্রভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত থাকা মাদক ব্যবহারের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত হযেছে। আশঙ্কাজনকভাবে, প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী মাদক সহজলভ্য বলে জানিয়েছে।

বাংলাদেশে মাদক ব্যবহারকারী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ খুবেই সীমিত। গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ১৩ শতাংশ মাদক ব্যবহারকারী কখনো চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন। যদিও অর্ধেকের বেশি ব্যবহারকারী মাদক ছাড়ার চেষ্টা করেছেন, পর্যাপ্ত মাদক নির্ভরতার চিকিৎসাসেবা, কাউন্সেলিং, সামাজিক ও আর্থিক সহাযতার অভাবে অধিকাংশই সফল হতে পারেনি। মাদক ব্যবহারকারীরা চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা (৬৯%), কাউন্সেলিং (৬২%) এবং কর্মসংস্থান সহায়তাকে (৪১.২%) সবচেয়ে জরুরি প্রযোজন হিসেবে উল্লেখ করেছে। ৬৮% মাদক ব্যবহারকারী সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে অপবাদ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে মাদক সমস্যা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়: এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। শুধুমাত্র দমনমূলক বা শাস্তিমূলক পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত জনস্বাস্থ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি। গবেষণার এই তথ্যভিত্তিক প্রমাণ ভবিষ্যতে জাতীয় নীতি প্রণয়ন, কর্মসূচি পরিকল্পনা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জনাব মোহাম্মদ গোলাম আজম, কো-ইনভেসটিগেটর অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম, কো-ইনভেসটিগেটর ফোরকান হোসেন, বিএমইউর পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডা. মো. শাহিদুল হাসান বাবুল প্রমুখ।

বিদ্যুৎ–গ্যাস–পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না: আদালতের নিষেধাজ্ঞা

হর্ন বাজানো আমাদের বন্ধ করতেই হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

এনসিসি ইসলামিক ব্যাংকিং ফেনী শাখার উদ্বোধন

জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোকে গবেষণায় গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে: ঢাবি ভিসি

দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি’র উদ্যোগে ব্যামেলকো কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ২০২৬ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

পূবালী ব্যাংকের ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ১ম ব্যবস্থাপক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ম্যানেজারস কনফারেন্স

দেশ ও জনগণের স্বার্থে খালেদা জিয়ার অবিচল দৃঢ়তা তাকে আপসহীন নেতৃত্বে আসীন করেছে

আকিজ-মনোয়ারা ট্রাস্টের শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ১৫০ ঢাবি শিক্ষার্থী