জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা ও কামালের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদ পরিবার ও ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে ট্রাইব্যুনাল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এতে আরো বলা হয়, অনতিবিলম্বে দণ্ডিত ও পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে না নিলে, আসামিগণ যেকোনো সময় তা ভোগ, বিক্রয় বা অন্য কোনো উপায়ে হস্তান্তর করে ট্রাইব্যুনালের বাজেয়াপ্তকরণসংক্রান্ত রায় ও আদেশ নিষ্ফল করে দিতে পারেন।
এমতাবস্থায়, দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নপূর্বক তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলিবন্দোবস্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হলো।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আসামিদের আপিল করার সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট সেই সময় পার হয়ে যাওয়ায় তারা আর আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না, ফলে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে এখন কোনো আইনি বাধা নেই।