রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমের মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছরের সেই কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আবদুল মোক্তাদির দুই হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত ওই কিশোরের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হলেও শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই ট্রাইব্যুনাল। সেদিন কিশোরের পক্ষে আদালতে জামিনের আবেদন দাখিল করা হলেও শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৪ বছর বয়সী মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
নিহত মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মোক্তাদীর ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় গাড়িচালক আকাশ মারককে আসামি করা হলেও চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরের নাম প্রথমে এজাহারে ছিল না। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে পুলিশ ২৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় ওই কিশোরকে হেফাজতে নেয়।