জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার
জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন বছরে ছয় মামলায় ৯৯ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে গত জানুয়ারিতে চার মামলায় ৮৮ এবং ফেব্রুয়ারিতে দুই মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
এছাড়াও চার মামলায় সজিব ওয়াজেদ জয়, ওবায়দুল কাদেরসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এ মাসেই আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুমের দুই মামলা ও জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ ৩২ জনের বিচার শুরু হয়েছে। এছাড়া আবু সাঈদ হত্যা মামলা ও আশুলিয়া হত্যা মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম আমার দেশকে বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর থেকে জুলাইযোদ্ধা ও দেশবাসীর আক্ষেপ ছিল ট্রাইব্যুনালে কাজ হয় না, বিচার হয় না। আসলে ওই সময়টা ছিল তদন্তের পিরিয়ড। কারণ ট্রাইব্যুনালে যে কোনো মামলা বিচারে আনতে গেলে আগে তদন্ত করতে হবে। এই এক বছর তিন মাস বা এক বছর চার মাসে তদন্ত সংস্থা তদন্ত করেছে। আর আমরা যাচাই-বাছাই করে কয়েকটি মামলার তদন্তকে প্রাধান্য দিয়ে বিচারের জন্য আলাদা করে এনেছি। এই মামলগুলো হলো শেখ হাসিনার মামলা, চাঁনখারপুলের মামলা, আবু সাঈদ হত্যা মামলা ও আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলা। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও চাঁনখারপুল মামলার রায় হয়েছে। অন্য মামলাগুলোর বিচার এগিয়ে আসছে। সেই তদন্তের রেজাল্ট আপনারা এখন দেখতে পাচ্ছেন। গত এক বছরে একটানা যে মামলাগুলোর তদন্ত হয়েছে, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলোর অভিযোগ দাখিল হচ্ছে।
প্রসিকিউটর আরো বলেন, প্রথমদিকে তদন্ত পরিচালনায় কিছু বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ এই তদন্ত সংস্থার টিমটা নতুন ছিল। তারা আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলার তদন্ত করেনি। এজন্য একটু বেশি সময় লেগেছে। এখন যে দুটো মামলার রায় হয়েছে, এ মামলাগুলোর তদন্তের অভিজ্ঞতার ফলে অন্য মামলার তদন্তে এখন সময় কম লাগছে। প্রথমদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিকভাবে একটা মামলার বিচারিক কার্যক্রম যেভাবে এগোনোর কথা, সেভাবে হতে পারেনি। এখন সবকিছু স্মুথলি চলছে। শিগগিরই আরো কয়েকটি মামলার তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হবে।
ছয় মামলায় ৯৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারিতে চার মামলায় ৮৮ জন ও ফেব্রুয়ারিতে দুই মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে । মামলাগুলো হলো—
১. জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ২৬ জনের বিরুদ্ধে গত ১৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২৬ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। এই মামলার আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ১৮ আসামি পলাতক।
২. জুলাই বিপ্লবের সময় ফার্মগেটে গোলাম নাফিজসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমারসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গত ১৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি শচীন মৌলিক শর্টগান দিয়ে রমিজ উদ্দিনের চোখে সরাসরি গুলি করেন। এর ফলে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক।
৩. জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফারহান ফাইয়াজ ও মাহমুদুল রহমান সৈকতসহ নয়জনকে হত্যা ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গত ১৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনাল-১-এ অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলায় তাপস-নানক ছাড়াও ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৮ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। চার আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।
৪. জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা এলাকায় শিশু রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যা মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গত ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ এ অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
৫. জুলাই বিপ্লবে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোমনাথ সাহাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ১ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ আমলে নিয়েছে। একইসঙ্গে আসামিদের হাজিরে ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। বাকিরা পলাতক।
৬. জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে ৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়েছে আদালত। দুই আসামি অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তাদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে।
চার মামলায় ১২ জনের বিরু্দ্ধে বিচার শুরুর আদেশ
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে পৃথক চার মামলায় সজিব ওয়াজেদ জয়, ওবায়দুল কাদেরসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাগুলো হলো—
১. জুলাই বিপ্লবে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে গত ১২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। এই মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
২. শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গত ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য তারিখ ধার্য করা হয়। জিয়াউলের বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার তিনটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। গত ২৩ ডিসেম্বর এসব অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
৩. জুলাই বিপ্লবে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে গত ২১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। দুই আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের তিনটি অভিযোগ এনে গত বছরের ৪ ডিসেম্বের অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিশন। ওইদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
৪. জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে এই মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
এই মামলায় অপর আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিদের সবাই পলাতক।
তিন মামলায় সাবেক-বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ ৩২ জনের বিচার শুরু
আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুমের দুই মামলা ও জুলাই বিপ্লবে হত্যার ঘটনায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ ৩২ জনের বিচার শুরু হয়েছে ট্রাইব্যুনাল-১-এ। মামলাগুলো হলো—
১. জেআইসি বা কুখ্যাত বন্দিশালা আয়নাঘরে ভিন্নমতের অসংখ্য মানুষকে গুম করে বর্বরতম নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু হয়েছে ট্রাইব্যুনাল-১-এ। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গত ১৯ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এ মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী গ্রেপ্তার রয়েছেন।
এছাড়া শেখ হাসিনা ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচজন মহাপরিচালকসহ অপর আসামিরা পলাতক।
২. জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চার আসামির বিচার শুরু হয়েছে গত ২০ জানুয়ারি। ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন জুলাই বিপ্লবে শহীদ গঙ্গাচরণ রাজবংশীর ছেলে বিশ্বজিৎ রাজবংশী।
৩. র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিচার শুরু হয়েছে ট্রাইব্যুনাল-১ এ। গত ২১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন গুমের শিকার ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেম আরমান। তিনি দীর্ঘ আট বছর গুমে থাকাকালীন নির্মমতার তথ্য তুলে ধরেন এবং আসামিদের বিচারের দাবি জানান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে। জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে মুক্তিকামি ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরতম হত্যা চালানো হয়। পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে ১৪০০-এর অধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হন। এছাড়াও ২৫ হাজারেও অধিক গুরুতর আহত হন।