সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে দাবি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর গত রোববার এবিষয়ে অভিযোগ দাখিল করেন ‘গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান কানাডা প্রবাসী মমিনুল হক মিলন। সোমবার আমার দেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। যেহেতু এটি বেগম জিয়ার পারিবারিক ইস্যু। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবো, এ বিষয়ে তাদের অবস্থান কী বিস্তারিত জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এর বেশি এখন আর কিছু বলতে পারবো না।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্যই ছিল দেশের স্বাধীনতা ও স্বাবভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার মাধ্যমে ধ্বংস করে ফেলা। জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে চিরতরে পঙ্গু করে ফেলা। এরই অংশ হিসেবে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামানের পরমায়েশী রায়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর বছরের কারাদণ্ড দেয়। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, অন্যান মন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশনের এবং সরকারের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশিত ফরমায়েশি রায়ের পর ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে মরহুম সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ২০০ বছরের পুরোনো অস্বাস্থ্যকর পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে আটক রাখা হয়। পরবর্তীতে আবারো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, কারাবাসের সময় বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ৭৫ বছরের বেশি ছিল। অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এখন অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ওই সময়ে খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল, স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এরপর তাঁর শরীর খুব খারাপ হয়ে যায়। বেগম খালেদা জিয়া ২০০৮ ফেব্রুয়ারি মাসে পায়ে হেটে সুস্থ্য অবস্থায় কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন নিপিড়ন, অযত্ন-অবহেলার পাশাপাশি তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে চিকিৎসকের নিকট আবেদনের পর রিপোর্ট পাওয়া যায় । এতে বলা হয়, তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে লিভার সিরোসিস, পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিকস, আর্থেরাইটিস, ডিপ্রেশন ও অন্যন্য আক্রান্ত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসক ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন সরকারের কাছে কারাগার থেকে মুক্তি, সঠিক চিকিৎসা, প্রদান এবং মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী বিদেশে চিকিৎসা প্রদানের অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সরকার সব আবেদন অগ্রাহ্য করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।
এই অবস্থায় স্পষ্ট যে, সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মাফিয়াতন্ত্রের অবৈধ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলার পরমায়েশী রায়ে পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদান না করে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘণ করেছে।
এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে বিচার ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়।