জুলাই বিপ্লবের অগ্নিময় সময়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নেন রাজু আহমেদ। ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর বাঁশবাড়িতে আন্দোলনে অংশ নিলে পুলিশ, র্যাব, আনসার, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ছাত্রজনতার ওপর মুহুর্মুহু গুলি করতে থাকে। এ সময় আবাসিক ভবনের গেটের ভিতর আশ্রয় নেওয়া রাজুকে পুলিশ ও আনসার সদস্য টেনে বের করে পায়ে ও পেটে গুলি করে। তখন তার পেট থেকে রক্তমাখা ভাত বেরিয়ে আসে। হাসপাতালে নিলে শহীদ হন রাজু।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মামুন ফরায়েজীর জবানবন্দিতে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে।
জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অষ্টম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে মামুন ফরায়েজী জানান, তার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৩১ বছর। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মোহাম্মদপুর রিং রোডে তার ব্যবসা। রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তিনি ১৭ জুলাই থেকে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। ১৮ জুলাই আল্লাহ করিম মসজিদের পাশে আন্দোলনে অংশ নিলে পুলিশ, র্যাব, আনসার, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা ছাত্রজনতার ওপর পাখির মতো গুলি করতে থাকে। তখন অসংখ্য আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হন।
তিনি জানান, ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর বাঁশবাড়ি নামক স্থানে আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশ, র্যাব, আনসার, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ছাত্রজনতার ওপর মুহুর্মুহু গুলি করতে থাকে। তখন তারা দৌড়ে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের গলিতে আশ্রয় নেন। অনেকেই ওরিয়েন্টাল কোভান নামক আবাসিক ভবনের গেটে আশ্রয় নেন। সেখানে আশ্রয় নেওয়া রাজু আহমেদ নামের আন্দোলনকারীকে একজন পুলিশ ও আনসার সদস্য টেনে বের করে গুলি করে। জননী কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে আনলে দেখা যায়, তার পায়ে ও পেটে গুলি লেগেছে এবং তার পেট থেকে রক্তমাখা ভাত বেরিয়ে আসে। পরে হাসপাতালে নিলে রাজু শহীদ হয়েছেন বলে জানেন তিনি। রাজুকে যে আনসার সদস্য গুলি করেছে, তার নাম ওমর ফারুক।
জবানবন্দিতে ট্রাইব্যুনালকে মামুন আরও জানান, ২২ জুলাই মোহাম্মদপুর ফুটওভার ব্রিজের নিচে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে টিয়ার শেলে তিনি আহত হন। তখন তার রক্তবমি হয়। ওইদিন অসংখ্য আন্দোলনকারী আহত হয়েছিল।
তিনি জানান, এসব হত্যার জন্য তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা, ফজলে নূর তাপস এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকের নির্দেশে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দায়ী। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।