জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার এক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৬ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইব্রাহীম খলিল এ মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানি করতে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষে শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখানোর ওই আদেশ দেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত দুটি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ১২ মে বিচারপতি খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিন পান। আদেশের পরে তার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, সব মামলায় জামিন হওয়ায় আপাতত খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই। তবে এরইমধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় ২৮ এপ্রিল বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলার সবগুলো জামিনে রয়েছেন তিনি। এবার নতুন করে আরেক হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে খোবাইব নামে এক তরুণ নিহত হন।
এ ঘটনায় মামলা করে নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।