প্রথমে হাজির হতে অস্বীকৃতি
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানান সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তবে প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রসিকিউশনের নির্দেশে তাকে হাসপাতাল থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
বৃহস্পতিবার কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ঘোষণার দিন এ ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, অসুস্থতার কারণে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার ও চিফ প্রসিকিউটরকে অবহিত করে কারা কর্তৃপক্ষ। তারা অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে কারা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। এরপর যেকোনো অবস্থায় তাকে হাজির করার মৌখিক নির্দেশ দেয় প্রসিকিউশন। নির্দেশ পাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ মার্চ আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী কামরুল ও মেননের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তিনি যুক্তি দেন, অভিযোগের পক্ষে প্রসিকিউশন কোনো শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতারও প্রমাণ নেই।
অন্যদিকে, গত ২ মার্চ অভিযোগ গঠনের আবেদন করে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কামরুল ও মেনন বিভিন্নভাবে উসকানিমূলক ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের প্ররোচনায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, মারণাস্ত্র ব্যবহার ও কারফিউ জারির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর দিকে নিয়ে যায়।
রাজধানীর বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায় ২৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
এআরবি