শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজ করছে সরকার। এজন্য কারিকুলামে পরিবর্তন-পরিমার্জন করা হচ্ছে। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করে ছাপানো হচ্ছে। আর ২০২৮ সালে কারিকুলাম পুরোপুরি পরিবর্তন করা হবে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের মাত্র তিন মাস মেয়াদে কারিকুলাম পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে এবার সঠিকভাবে পরিমার্জন করে বই ছাপানো হচ্ছে। আর কারিকুলাম পুরো পরিবর্তনের জন্য কাজ চলছে। ২০২৮ সালে পুরো পরিবর্তন হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিখন ফল অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাক্রম করা হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
প্রাথমিক-মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার বই
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও কারিকুলামকে যতটা সম্ভব ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিগত ১৬ বছরের সব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। যত দ্রুত সম্ভব পাঠ্যবইয়ে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন করা হবে। একটা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে নতুন চারটি বই যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, চতুর্থ শ্রেণিত খেলাধুলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দুটি বই, আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস পাঠ্যবই পড়ানো হবে।
নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চান, যেখানে আমরা সৃজনশীলতা, মেধা ও মননশীলতাকে মূল্যায়ন করতে পারি। পুথিগত শিক্ষা বা সার্টিফিকেটের পাশাপাশি কীভাবে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া যায়, সে বিষয়েও আমরা গুরুত্বারোপ করছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আমাদের আগামীর তরুণ প্রজন্ম সুদক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে এবং বাস্তব জীবনে আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা কিংবা চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করবে।
এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে। সব শিক্ষা বোর্ডকে এই ফল প্রকাশের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে সেশনজটের কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। ১৮ বছর বয়সে যেখানে পড়াশোনা শেষ হওয়ার কথা, সেখানে সেশনজটের কারণে অনেকের ২০ বছর পার হয়ে যাচ্ছে। শুধু এসএসসি নয়, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের সেশনগুলোকেও আমরা একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছি।
আগামী এসএসসির রুটিন বহাল
আগামী শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ হয়ে যাবে। সেশনজট পুরোপুরি দূর করতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু এবং ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার একটি খসড়া রুটিন তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রুটিনটি নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিক্রিয়া ও মতামত আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা রোজার আগেই শেষ হোক এটা স্টেকহোল্ডাররাই চেয়েছিলেন। সে অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি থেকে এই পরীক্ষা শুরু করার জন্য রুটিন করেছি। এখন পর্যন্ত সেটাই আছে।
গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ২০ জুন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক ও বালিকাদের জন্য পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় ১১ লাখের বেশি ছাত্রী এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্র, অর্থাৎ মোট ২২ লাখেরও বেশি কোমলমতি শিক্ষার্থী এই ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে।
আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খেলার উদ্বোধন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিযোগিতা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়; বরং দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।