হোম > শিক্ষা

৯ দিন ধরে অচল চুয়েট: প্রতিমন্ত্রীর রোষানলে পড়ায় টিকতে পারেননি উপাচার্য

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও রাউজান প্রতিনিধি

উপাচার্য পদে রদবলের ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবম দিনের মতো কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি তুলে চলমান সংকট নিরসনে সরকারের উদাসীনতার প্রতিবাদ জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিসি পরিবর্তন ও নতুন ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম এই বিদ্যাপীঠে অস্থিরতা তৈরি হলেও মূলত ক্ষমতাসীন বিএনপির মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ অচলাবস্থার সূত্রপাত। আর এই কোন্দলেই উপাচার্য পদে রদবদল হয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চার বছরের জন্য ভিসি নিয়োগ দেয় সরকার। তার আগে ভিসি ছিলেন মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়্যা। তাকে অপসারণের পর কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগের গুঞ্জন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক আবু সাদাত সায়েমকেই ভিসি করা হয়।

গুঞ্জন রয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সমর্থন আর চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সরকারের এক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ভিসি হিসেবে নিয়োগ পার আবু সাদাত। কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী। চুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের রাজনীতি ওই প্রতিমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে।

সাবেক ভিসি সায়েম এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই সায়েমের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন চুয়েট ছাত্রদলের নেতারা। চুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও গত বছরের ৯ জুলাই ছাত্রদলের ৯ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ভিসি সায়েমের ওপর শুরু থেকে ছাত্র রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে।

জানা যায়, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে সরকারের একজন মন্ত্রীকে অতিথি করার পর থেকে ওই প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। এর জের ধরেই ওই প্রতিমন্ত্রীর অনুসারী চুয়েট ছাত্রদল নেতারা তার ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। উপায়ান্তর না পেয়ে ওই প্রতিমন্ত্রীর বাসায়ও যান সাবেক ভিসি। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী তার সঙ্গে দেখা করেননি।

এক পর্যায়ে ওই প্রতিমন্ত্রীর মান ভাঙাতে তার বাবা বিএনপি নেতার সঙ্গেও দেখা করেন ভিসি সায়েম। কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হয়। সবশেষ ২১ সেপ্টেম্বর ভিসি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই ঘটনায় ক্ষোভ তৈরি হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এর জের ধরে গত ৯ দিন ধরে অচলাবস্থা তৈরি হয় চুয়েটে।

ছাত্রদলের সঙ্গে সাবেক ভিসির দূরত্ব রয়েছে তা ফুটে ওঠে চুয়েট ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদের বক্তব্যে। তিনি জানান, আগের ভিসি শিক্ষার্থীবান্ধব ছিলেন না। তার সময়ে তিনজন শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে মারা গেছে কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন অযৌক্তিক।

তিনি বলেন, ভিসি কে হবে তা কোনো শিক্ষার্থী ঠিক করে দেবে না। সরকার যাকে নিয়োগ দেবে তাকে সহযোগিতা করাই সবার দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে নতুন ভিসি শেখ শরীফুল আলমকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।

এদিকে, আগের ভিসি আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল বুধবার বিকালেও ক্যাম্পাসে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় কমপ্লিট শাটডাউন নিরসনে সরকারের উদাসীনতার প্রতিবাদ জানান তারা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, আমরা ৯ দিন ধরে চুয়েটে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে খেয়াল করেছি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে সরকার, ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়েরও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। তাই প্রতিবাদে চোখে কালো কাপড় বেঁধে সরকারের এই নীরবতার প্রতিবাদ জানিয়েছি।

মো. হাসানাত নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আন্দোলনের ৯ দিন অতিবাহিত হয়েছে। ক্লাস, পরীক্ষা, একাডেমিক কার্যক্রম সবই বন্ধ। আমাদের একটাই দাবি সেটি হলো— পূর্বের ভিসিকে বহাল রাখা।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে গতকালও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করে আসছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি। এর আগে ক্লাস, পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

প্রতিদিন উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিচ্ছেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা। তবে কমপ্লিট শাটডাউনের শুরু থেকেই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ছাত্রদল নেতারা। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন গণস্বাক্ষর হলে ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কেউ তাতে অংশ নেয়নি।

চুয়েটে ছাত্রদল ঘোষিত সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ফেসবুকে লিখেছেন, আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও শিবিরের ইন্ধন রয়েছে। শিক্ষকদের মানববন্ধনের নামে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। তাছাড়া আন্দোলন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেন ওয়াসিফ।

এ বিষয়ে চুয়েট কর্মচারী সমিতির সহ-সভাপতি শাহ আলম বলেন, আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা অফিসে ফিরব না। পূর্বের ভিসিকে বহালের দাবিতে কর্মবিরতি চলবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোনো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না।

চুয়েটের নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, সরকার নানাভাবে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অসহযোগিতায় সেটি হচ্ছে না। সরকারের উদ্যোগ দৃশ্যমান না হলেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের একটি অংশের সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মচারীদের যোগাযোগ হয়েছে। অনেকে বুঝতে পারছে একটি চক্র সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আন্দোলনটি করাচ্ছে। তাই অনেকে ইতোমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছে। তবে আমি আশা করছি দ্রুত সব সমস্যা নিরসন করে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারব এবং চুয়েটে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারব। এ সময় তিনি চুয়েটের কোনো ক্ষতি চান না বলেও জানান।

শিবিরের সাথী থেকে এক বছর আগেই বহিষ্কার আম্মার, জানা গেল যেসব কারণ

ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্টের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বললাম, অভিযোগগুলোর কোনোটার সঙ্গেই আমি সম্পৃক্ত নই: আম্মার

মেধা তালিকায় প্রথম, তবুও গেজেটে নাম নেই সোহেল-মামুনের

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ হলেন ফাতেমা জোহরা

টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাংকিংয়ে দেশ সেরা জাবি

ন্যায্যতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ায় পানির অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান

ঢাবিতে লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু ৩ অক্টোবর, থাকছে ৭৬ গবেষণাপত্র

ঢাবিতে শেখ মুজিব হলের ফটক থেকে মুছে দেওয়া হলো ‘শহীদ ওসমান হাদি’ নাম

বেরোবিতে আড়াই বছর ধরে শূন্য উপ-উপাচার্যের পদ, দুই মাসেও যোগ দেননি ট্রেজারার