ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী বলেছেন, বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ার মাধ্যমেই আমরা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব। অথচ বাংলাদেশে কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষার সংকট বিদ্যমান। এ সংকট মোকাবেলা করে আদর্শ, কর্মমুখী ও নৈতিক জাতি গঠন করা সম্ভব।
তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় ড্রিম জেনারেশন কমপ্লেক্স হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে শিক্ষার সংকট ও উত্তরণের উপায়’শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি স্টাডি ফোরাম, উত্তরা, ঢাকার উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিটি ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী শাহাদাত কবির। তিনি তার উপস্থাপনায় বর্তমান শিক্ষা সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করেন এবং সেখান থেকে উত্তরণের জন্য বাস্তবসম্মত কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।
ইউনিভার্সিটি স্টাডি ফোরামের সভাপতি এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ফ্যাকাল্টি মেম্বার ড. মো. রাশেদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও বক্তব্য প্রদান করেন-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি)-এর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন ড. ইব্রাহীম সালেহীন, একই ইউনিভার্সিটির ছাত্রবিষয়ক বিভাগের পরিচালক আবদুল মতিন, নর্দান ইউনিভার্সিটির ডিন মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. সাকোয়াত জামান সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. ওমর হোসেন।
সেমিনার শেষে ওপেন সেশন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাংলাদেশে শিক্ষার সংকট ও তার থেকে উত্তরণের উপায় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। বক্তারা বাংলাদেশে শিক্ষা সিলেবাসে নৈতিক শিক্ষার সংকট, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দেন।
তারা মনে করেন, নৈতিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যতীত সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠন করা সম্ভব নয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে দেশের শিক্ষা খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসন করতে।
সেমিনারে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও স্কলার উপস্থিত ছিলেন।