চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেওয়া এক পদত্যাগপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে আজ বিকেলে হলে আসন বরাদ্দের সুপারিশকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে হল প্রভোস্টের বাগবিতণ্ডার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই অডিওতে শোনা যায়, রাশেদুল নামের এক ছাত্রদলকর্মীর জন্য হলে আসনের সুপারিশ করছেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। ওই শিক্ষার্থী এমফিলের রানিং শিক্ষার্থী না হওয়ায় তাকে আসন দিতে অস্বীকৃতি জানান হল প্রভোস্ট। পরে ছাত্রদল নেতাকে বলতে শোনা যায়, হল প্রভোস্ট হলে শিবিরের ‘এস্টাবলিশমেন্ট’ করেছেন এবং মেধাতালিকার বাইরে শিবিরের নেতাকর্মীদের আসন দিয়েছেন। এসময় তিনি হলের সব আসন বরাদ্দের তালিকা জানতে চান। পাশাপাশি হল প্রভোস্ট জামায়াত-শিবিরের চেয়ে বড় ক্যাডার কিনা এবং উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য চেয়ে তিনি বড় কি না—এমন প্রশ্নও করেন।
এদিকে ভাইরাল হওয়া অডিওর ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ওই শিক্ষার্থী মেধার ভিত্তিতে আগে থেকেই হলে আসন পেয়েছেন। মাস্টার্সের ফল প্রকাশের পর এমফিলে ভর্তির প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তিনি আসনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন।
নোমান বলেন, প্রভোস্ট বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় তিনি প্রো-ভিসির কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে প্রো-ভিসির সুপারিশ নিয়ে প্রভোস্টের কাছে গেলে তাকে হল ছাড়তে বলা হয় এবং তার মা-বাবার সামর্থ্য নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি প্রভোস্টকে ফোন করে এমন আচরণের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ৫ আগস্টের পর মেধার ভিত্তিতে এবং সুপারিশের মাধ্যমে কতটি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশের দাবি জানান।
নোমান আরও বলেন, স্বচ্ছতা ও বৈষম্যমুক্ত হল নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় প্রশ্ন তোলার সাহস তিনি সবসময় রাখবেন।