চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন ছাত্রশক্তি চবি শাখার মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান রাকিব। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীও ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাবেদসহ ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাতে ছাত্রদলের উদ্যোগে জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিল বনাম জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করা হয়। খেলার হাফটাইমে মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ দিশান এবং একই বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াফির সঙ্গে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
পরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান দিশানকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন। তবে এ সময় দিশান ও ইয়াফি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার জিরো পয়েন্ট এলাকায় দিশান, পলাশ মোল্লা ও তাদের কয়েকজন সহযোগী মিলে মামুনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর তারা শাহজালাল হলে আশ্রয় নেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই মারধরের ঘটনায় জড়িত দুজনকে মোটরসাইকেলে করে আলাওল হল ও চবি মেডিকেলে নিয়ে যান ছাত্রশক্তি চবি শাখার মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান রাকিব।
পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাকিবকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। সেখানে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরও ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের শিকার হন।
মারধরের শিকার ছাত্রশক্তি নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব বলেন, আমার বন্ধু পলাশ আমাকে বলল, তাকে যেন চবি মেডিকেলে নিয়ে যাই। ওই বন্ধুকে কেন মেডিকেলে নিয়ে গেছি, তা জানতে চেয়ে ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব আমাকে বলেন, ‘তুই কত বড় নেতা হয়েছিস?’ পরে আমি শাহজালাল হলের সামনে এলে ছাত্রদলের আরেক নেতা মামুনসহ ২০ থেকে ২৫ জন আমাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। একটু পর আমাকে দূরে নিয়ে গিয়ে ছাত্রদল নেতা জাবেদও আমাকে থাপ্পড় মারেন।’
রাকিবের বন্ধু পলাশ মোল্লা বলেন, গত ২৯ তারিখের খেলাকে কেন্দ্র করে আমাদের এক জুনিয়র দিশানকে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী মারধর করেন। আজ সেই ঘটনার জেরে দিশানের সঙ্গে আবারো কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য আমরা কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় আহত দিশানকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমি উলফাতুর রহমান রাকিবকে মোটরসাইকেল নিয়ে আসতে বলি। পরে আমরা শাহজালাল হল এলাকা থেকে বের হয়ে হলের গেটের দিকে গেলে সেখানে ২০ থেকে ২৫ জনের মতো লোক দাঁড়িয়ে ছিল। তারা রাকিবকে মোটরসাইকেল থামাতে বলে। আমরা আশঙ্কা করি, থামালে আমাদের ওপর হামলা হতে পারে। এরপরও তারা আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং রাকিবসহ কয়েকজনকে মারধর করে।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত দিন দিশান ও ইয়াফি খেলা দেখার স্থানে সিগারেট খাচ্ছিল। আমি তাদের বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আজ আমি কয়েকজনকে নিয়ে খেলা দেখতে যাচ্ছিলাম। এ সময় দিশান, পলাশ মোল্লা, আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী রেজাউরসহ আরও কয়েকজন এসে আমাদের মারধর করে। পরে আমরা একত্রিত হলে ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব দিশান ও পলাশ মোল্লাকে মোটরসাইকেলে করে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাদের নামিয়ে দিয়ে ফিরে আসলে সেখানে আবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
রাকিবকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, জিরো পয়েন্টে আমাদের এক জুনিয়র মামুনের ওপর হামলা করা হয়। আমরা উপস্থিত হতে না হতেই দেখতে পাই ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব দুইজনকে নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে চলে যান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অ্যাসোসিয়েশনের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন বলেন, আমাদের যার ওপর হামলা করা হয়েছে, তিনি মামুন। হামলার পর কারও মাথা ঠিক ছিল না। এ কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কোনো সদস্য অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, গত রাতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আমরা পাশেই টহলে ছিলাম। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি। এ ঘটনায় আমাদের একজন শিক্ষার্থী উলফাতুর রহমান রাকিব আহত হয়েছেন। আমরা সব তথ্য সংগ্রহ করছি। তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে সমস্যা সমাধান করতে গেলে কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হতেই পারে।
জেডএম