আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিএসসির তিন বিতর্কিত সদস্যের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিতর্কিত তিন সদস্য হলেন-অ্ধ্যাপক ডা. সৈয়দা শাহিনা সোবহান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এফ জগলুল আহমেদ ও ড. মো. মিজানুর রহমান ।
রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম এ্যন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক জালাল আহমদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মামুন হাসান, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ছাত্র আল আমিন মিরা, নজরুল ইসলাম, শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের শিক্ষার্থী রাখেশ, বাংলা বিভাগের ছাত্র মোঃ আবু হানিফ আল ইমরান প্রমূখ।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন,পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের তিনজন দোসরকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)'র সদস্য হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে গত ২ জানুয়ারি। তাদের মধ্যে ডা. শাহিনা সোবহানের বাবা সৈয়দ আব্দুস সোবহান ১৯৭৯ সালে জামালপুর ৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠিত হলে তিনি সম্পাকমন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের হত্যাকান্ডের পর তিনি আত্মগোপন করেন। ১৯৭৬ সনের ৪ মার্চ তিনি গ্রেপ্তার হন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন ঢাকা মেডিকেলে পড়ার সময়।
তারা আরো জানান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.)এফ জগলুল আহমেদ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন। ২০১৮সালে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগ করে অবসরে যান।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ড. মো. মিজানুর বিসিএস ৮৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগের সময়ে বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিয়াম ফাউন্ডেশনকে প্রশাসন ক্যাডারদের ‘কেন্দ্রবিন্দু’ ধরা হয়ে থাকে। উনিও আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন দূতাবাসে প্রাইজ পোস্টিং পেয়েছেন।"
শিক্ষার্থীরা আগের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ডা. জালালকে পিএসসির সদস্য করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ছাত্র জনতা রুখে দিয়েছে।