আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে নিজস্ব অর্থায়নে একটি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করেছে জবি শাখা ছাত্রদল। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও সিট সংকটে ভোগান্তিতে পড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সংগঠনটির এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য নয়টি বাসের ব্যবস্থা করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা থেকেই পরিবহন পুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সিরিয়াল শুরু হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ বাসের সিট পূর্ণ হয়ে গেলে বিশেষ করে রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে জবি ছাত্রদল অতিরিক্ত বাসের উদ্যোগ নেয়। প্রথমে প্রশাসনের কাছে আরও দুইটি বাস সংযুক্ত করার অনুরোধ জানানো হলেও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা নিজস্ব অর্থায়ন ও ফান্ড সংগ্রহের মাধ্যমে একটি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে, বাসটি সিরাজগঞ্জ হয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গন্তব্যে যাবে। এতে প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদযাত্রা করতে পারবেন।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “ঈদের সময় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাস না পাওয়ার শঙ্কায় ছিল। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অনুরোধের পর আমরা নিজেদের উদ্যোগে বাসের ব্যবস্থা করেছি, যাতে তারা নিরাপদ ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “ভূমিকম্পের সময়ও শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা বাসের ব্যবস্থা করেছিলাম। ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা।”
এ উদ্যোগ সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, যিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সোনালী অতীতের একজন পরিচিত মুখ হিসেবে নেতাকর্মী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে সমাদৃত।
শিক্ষার্থীরা জানান, শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা হওয়ায় তাদের বাড়ি ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এমন উদ্যোগ ক্যাম্পাসে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করছে।
এসআর