২০ বছরের ইতিহাসে ভর্তি আবেদনে রেকর্ড গড়লেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভর্তি কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। ছয় দফা মেধাতালিকা প্রকাশের পরও বিভিন্ন বিভাগে এখনো প্রায় ১১৩টি আসন ফাঁকা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আশঙ্কাসহ নানা কারণে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ শুরু করে। প্রথম বছরেই এ পদ্ধতিতে ব্যাপক সাড়া মেলে।
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ হাজার ৩০টি আসনের বিপরীতে তিনটি ইউনিটে আবেদন করেন ৬৫ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪০টি আসন কমিয়ে মোট আসন সংখ্যা নির্ধারণ করে ৮৯০টি। আসন কমলেও আবেদনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬ হাজার ৬১২ জনে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ফলে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগিতা হয় প্রায় ১০৮ জন শিক্ষার্থীর।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ইতোমধ্যে ছয় দফা মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরও সব আসন পূরণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, বাণিজ্য এবং প্রকৌশল অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে মোট ১১৩টি আসন ফাঁকা রয়েছে।
এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগে ২টি, লোকপ্রশাসন বিভাগে ১১টি, নৃবিজ্ঞান বিভাগে ১১টি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ১০টি এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে ৯টি আসন শূন্য রয়েছে। কলা ও মানবিক অনুষদের বাংলা বিভাগে ফাঁকা রয়েছে ৯টি আসন। প্রকৌশল অনুষদের আইসিটি বিভাগে রয়েছে ৩টি আসন।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মার্কেটিং বিভাগে ৩টি, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে ৩টি, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে ২টি এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ২টি আসন ফাঁকা রয়েছে। অন্যদিকে বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ১৩টি, পরিসংখ্যান বিভাগে ১১টি এবং গণিত ও রসায়ন বিভাগে ৭টি করে আসন এখনো পূরণ হয়নি।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা জানান, কুবির ভর্তি কার্যক্রম তুলনামূলক আগে শুরু হয়েছিল। পরে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয় ও কাছের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়ে কুবিতে ভর্তি বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন শূন্য থেকে যায়।
এদিকে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে গত ১২ এপ্রিল। ক্লাস শুরুর প্রায় দুই মাস পর নতুন করে আসন পূরণের উদ্যোগ নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তবে মাঝপথে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি উপস্থিতি, অ্যাসাইনমেন্ট ও মিডটার্ম মিলিয়ে ৪০ নম্বর নির্ধারিত থাকে। ফলে দেরিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরা জানান, নতুন শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য প্রয়োজনীয় মেকআপ ক্লাস ও অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে এবং সিলেবাস সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, “আমরা কিছুটা তাড়াহুড়ো করে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান ছিল। পরে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয়ে সুযোগ পেয়ে কুবি থেকে ভর্তি বাতিল করে চলে যান। ফলে আসন শূন্য থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে তারা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”