ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি ও সারাদেশে সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল। মঙ্গলবার (০২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা কলেজের পুকুর পাড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় নেতাকর্মীরা ' অ্যাকশন টু অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন, ঢাকা কলেজ আসছে রাজপথ কাঁপছে, ধর্ষকের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, ধর্ষকের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না এবং ধর্ষকের আস্তানা ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. মিল্লাত হোসেন বলেন, গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারি শিক্ষার্থীকে শিবির নেতা গণধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। একজন নারী শিক্ষার্থীকে এভাবে গণধর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, শিবির সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করছে। শিক্ষাঙ্গণ হচ্ছে শিক্ষার জায়গা। আপনারা যদি রাজনীতি করতে চান, তাহলে অবশ্যই সেটা প্রকাশ্যে করতে হবে। গুপ্তভাবে বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে আপনাদের সমস্যা কোথায়? শিবিরের রাজনীতি আমরা অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করি।
এছাড়াও ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রহমান বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, ৫ আগস্টের পর থেকে শিবির জুলাই অভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড দাবি করছে। কিন্তু বাস্তবে ওই ঘটনার কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছি— এই ঘটনার আড়ালে আপনারা ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজের পরিকল্পনা করবেন না।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস বলে ১৯৭১ সালে জামায়াত-শিবিরের সহযোগিতায় বহু ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল। ৯০-এর দশকেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সন্ত্রাস, হত্যা ও ধর্ষণের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছিল। এবার সময় এসেছে এই বটবৃক্ষের মতো বিস্তার করা চক্রকে মূল থেকে উচ্ছেদ করার।
উল্লেখ্য, বামপন্থী কয়েকটি ছাত্রসংগঠন–সমর্থিত ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাহমিদা আলম ২৮ আগস্ট ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সোমবার (০১ সেপ্টেম্বর ) ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশ দেওয়ার পর আলী হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে রিট আবেদনকারী ওই ছাত্রীকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দিয়ে পোস্ট করেন। আলী হোসেনের এমন পোস্টের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 'ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদও এ ঘটনায় আলী হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আলী হোসেন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আজ বিকালে আমি একটা জঘন্য খারাপ স্ট্যাটাস দেই। যেটা একজন মানুষের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। কিন্তু আমি অমানুষের মতো সেটা দিয়ে দেই। আমি এই ঘটনার জন্য অত্যন্ত লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। তাছাড়া আমার কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নাই।