শিবির সভাপতি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ কামারুজ্জামান ছিলেন এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার কর্মনিষ্ঠা, ত্যাগ ও প্রখর চিন্তাশক্তির মাধ্যমে তিনি সবার হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন। বাতিল শক্তি তার এই প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা সহ্য করতে পারেনি। সম্পূর্ণ কাল্পনিক কাহিনি সাজিয়ে একটি সাজানো ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাকে বিচারিকভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদ কামারুজ্জামানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম শনিবার (১১ এপ্রিল) এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের অঙ্গীকার নিয়ে যে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, স্বাধীনতা-পরবর্তী শেখ মুজিবের ক্ষমতা গ্রহণের পর মুক্তিকামী মানুষের সেই স্বপ্ন ধীরে ধীরে ভঙ্গ হতে থাকে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং একদলীয় শাসন, দমন-পীড়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার কারণে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ব্যাহত হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যুগে যুগে এ দেশে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের ম্যান্ডেট ও আশা-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করেছে। বর্তমানেও আমরা দেখছি, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর রায়কে অবহেলা করা হচ্ছে। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ তাদের রায় বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগ ও বামপন্থিদের নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং দেশব্যাপী অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে শহীদ কামারুজ্জামান সংগঠনটিকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেন। মেধা, শ্রম ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তিনি দেশের প্রায় প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরকে সুসংগঠিত করেন এবং শিক্ষার্থীদের মণিকোঠায় এর দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবিরের এক স্বপ্নসারথি ও অকুতোভয় দুঃসাহসী ব্যক্তিত্ব শহীদ কামারুজ্জামান শুধু ছাত্রশিবিরের জন্যই নয়, বৃহত্তর পরিসরে দেশের ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তার মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। জ্ঞান, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী আন্দোলন ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত প্রজ্ঞা দিয়ে তিনি এ দেশের ইসলামী আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়ে গেছেন। তার প্রখর চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বগুণ বাতিল শক্তি সহ্য করতে পারেনি। তাই বিচারের নামে মিথ্যা ও সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মব সৃষ্টি করে তৎকালীন সরকার দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দকে নির্মূল করে নেতৃত্বশূন্য করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, নির্মম পরিহাস হলো—আজ সেই ট্রাইব্যুনালেই সংশ্লিষ্ট শাসকগোষ্ঠীর পতনের ইতিহাস রচিত হয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপনকারী শহীদ কামারুজ্জামান অন্যায় ও জুলুমের কাছে কখনো মাথা নত করেননি; বরং হাসিমুখে শাহাদাতকে বরণ করে নিয়েছেন। তার এই আপসহীন অবস্থান আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি এ দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তার শাহাদাত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।